প্রাথমিক শিক্ষা-সমাপনী পরীক্ষার প্রস্তুতি

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২০, ০৭:০১ এএম

বিষয় : প্রাথমিক বিজ্ঞান

(তৃতীয় অধ্যায় থেকে বর্ণনামূলক প্রশ্ন)

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও

১.         বরফসহ পানির গ্লাসের বাইরের পৃষ্ঠ কেন ভিজে যায়? ব্যাখ্যা করো।

২.         পানিচক্র ব্যাখ্যা করো।

৩.         জীবের কেন পানি প্রয়োজন?

৪.         বাতাসে পানি আছে তা আমরা কীভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি?

৫.         পুকুরের পানি থেকে আমরা কীভাবে নিরাপদ পানি পেতে পারি।

৬.         ঠাণ্ডা পানির গ্লাসের গায়ে লেগে থাকা পানির কণা এবং শিশির কেন একই রকম?

উত্তর

১.         কাচের গ্লাসে পানি নিয়ে তাতে যদি কয়েক টুকরো বরফ রেখে দেওয়া হয়, তবে গ্লাসের বাহিরের দিকে পানি জমতে দেখা যায় অর্থাৎ ভিজে যায়। বরফের ঠা-ার কারণে গ্লাসটি ঠাণ্ডা হয়। আর সে কারণেই ঠাণ্ডার সংস্পর্শে বায়ুর জলীয় বাষ্প ঠাণ্ডা হয়ে যায়। ফলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে পানিকণায় পরিণত হয়। এভাবে গ্লাসের বাহিরের জলীয় বাষ্প গ্লাসের গায়ে বিন্দু বিন্দু পানি হিসেবে জমা হয়। তাই বরফসহ পানির গ্লাসের বাহিরের পৃষ্ঠ ভিজে যায়।

২.         যে প্রক্রিয়ায় পানি বিভিন্ন অবস্থায় পরিবর্তিত হয়ে ভূপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে, তা-ই পানিচক্র। এ চক্রের মাধ্যমে সর্বদাই পানির অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে। পানিচক্রের ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো

            ক. পৃথিবীর বিশাল বারিমণ্ডলের মহাসাগর, সাগর, নদী ও অন্যান্য জলাশয়ের পানি সূর্যতাপে বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুমণ্ডলে চলে যায়।

            খ. বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প পরে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয়।

            গ. বায়ুপ্রবাহ মেঘকে আরও শীতল ও ঘনীভূত করে বৃষ্টিপাত ঘটায়, যা ভূ-পৃষ্ঠে ফিরে আসে।

            ঘ. বৃষ্টির পানির কিছু অংশ ভূমিতে শোষিত হয় এবং বাকি অংশ বিভিন্ন জলাশয়, যেমন- হ্রদ, নদী ও সাগর-মহাসাগরে পতিত হয়। এভাবে পানিচক্র প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে।

৩.         জীবের জন্য পানি অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ

            ক. পানি ছাড়া উদ্ভিদ বা প্রাণী তথা কোনো জীবই বাঁচতে পারে না।

            খ. প্রাণীর পুষ্টি উপাদান শোষণ ও দেহের প্রত্যেকটি অঙ্গে পরিবহনের জন্য পানি প্রয়োজন।

            গ. পানি দেহে স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

            ঘ. উদ্ভিদের খাদ্য তৈরি এবং তা বিভিন্ন অংশে পরিবহনের জন্য পানি প্রয়োজন।

            ঙ. উদ্ভিদের মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান শোষণের জন্য পানি প্রয়োজন।

            চ. পানি প্রচণ্ড গরমে উদ্ভিদের দেহ শীতল করে।

৪.         বাতাসে যে পানি আছে তা আমরা নিচের পরীক্ষাটির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে পারি

            ক. পরীক্ষাটির জন্য প্রয়োজন একটি কাচের গ্লাস ও কয়েক টুকরা বরফ।

            খ. শুরুতে বরফের টুকরাগুলো গ্লাসে নিই।

            গ. এ অবস্থায় কিছুক্ষণ রেখে গ্লাসের বাইরের দিক পর্যবেক্ষণ করি।

            ঘ. দেখা যাবে গ্লাসের বাইরে গায়ে পানি লেগে আছে এবং বরফের ঠাণ্ডার কারণে গ্লাসটি ঠাণ্ডা হয়েছে।

            ঙ. এতে গ্লাসের চারপাশের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে পানি বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় যে, বাতাসে পানি আছে।

৫.         পুকুরের পানি থেকে আমরা যেভাবে নিরাপদ পানি পেতে পারি তা নিচে বর্ণনা করা হলো

            একটি কলসি বা পাত্রে পুকুরের পানি দিয়ে রেখে দিই। কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে পাত্রের তলায় তলানি জমেছে। ওপরের অংশের পানি পরিষ্কার হয়েছে। এখন পরিষ্কার পানি অন্য একটি পাত্রে রাখি। কিন্তু এটি পরিষ্কার হলেও নিরাপদ নয়। ঐ পানিকে জীবাণুমুক্ত ও নিরাপদ করার জন্য ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে ফুটিয়ে আমরা নিরাপদ পানি পেতে পারি। এছাড়া পুকুরের পানিতে ফিটকিরি, ব্লিচিং পাউডার বা বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ইত্যাদি পরিমাণ মতো মিশিয়ে নিরাপদ পানি পেতে পারি।

৬.         বায়ু যখন ঠাণ্ডা কোনো বস্তুর সংস্পর্শে আসে, তখন বায়ুতে থাকা জলীয় বাষ্প ঠাণ্ডা হয়ে পানির ফোঁটা হিসেবে জমা হয়।

            একটি ঠাণ্ডা পানির গ্লাস কিছুক্ষণ রেখে দিলে বায়ু গ্লাসের সংস্পর্শে আসে। ফলে বায়ুতে থাকা জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে তা পানির কণায় পরিণত হয়। আবার শীতের রাতে যখন তাপমাত্রা কমে যায় তখন ঘাস, গাছপালার সংস্পর্শে জলীয় বাষ্প এসে ঘনীভূত হয়ে তা শিশির বিন্দুতে পরিণত হয়। এভাবেই ঠাণ্ডা পানির গ্লাসের গায়ে লেগে থাকা পানির কণা এবং ঘাসের ওপরের শিশির বিন্দু একই রকমের হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত