উত্তম কুমারের সঙ্গে মাত্র দুটি ছবিতে কাজ করেছেন সত্যজিৎ রায়। মহানায়কের মৃত্যুর পর ‘পথের পাঁচালী’ নির্মাতার মন্তব্য ছিল, “উত্তমের মতো কোনো নায়ক নেই। কেউ হবেও না। আশ্চর্য অভিনয়ের ক্ষমতা। ওর ক্ষমতা আছে দর্শক টেনে রাখার…।”
সে অনেকদিন আগের কথাই তো। ১৯৮০ সালের আজকের দিনে অর্থাৎ ২৪ জুলাই মারা যান উত্তম কুমার। সে দিনের এ মন্তব্য। সত্যজিতের কথা আবারও উচ্চারিত হচ্ছে আজ। কারণ তেমন নায়ক এখনো আসেনি কলকাতার সিনেমায়। হয়তো আসবেও না।
ওই দিন শোকবিহ্বল সুচিত্রা সেন বলেছিলেন, “ও গ্রেট... তবু যেন মনে হয়, ওকে ঠিক মতো আবিষ্কার করা গেল না।”
আড়াইশোর বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন উত্তম কুমার। বহুমুখী চরিত্রে নিজেকে ভেঙেছেন, গড়েছেন। নায়ক হিসেবে যখন তার গ্রহণযোগ্যতা চূড়ায়, তখন খলনায়ক কিংবা বাবার চরিত্রে অভিনয় করতে পিছুপা হননি। তাতেও তিনি দারুণভাবে সফল।
পরবর্তীকালে সুচিত্রার মতো সত্যজিতকে উত্তম প্রসঙ্গে বলতে শোনা যায়, যে দেশে সৎ অভিনেতার সদ্ব্যবহার করতে জানা লোকের এত অভাব, সেখানে এটাই স্বাভাবিক!
উত্তম কুমার ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। অভিনেতার পাশাপাশি প্রযোজক-পরিচালকও ছিলেন। তার আসল নাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। কলকাতার সাউথ সাবার্বান স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং পরে গোয়েঙ্কা কলেজে ভর্তি হন। কলকাতার পোর্টে চাকরি নিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারেননি। মঞ্চ অভিনয়ের সূত্র ধরেই চলচ্চিত্রে আসেন তিনি।
উত্তম কুমারের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল ‘দৃষ্টিদান’। এর আগে ‘মায়াডোর’ চলচ্চিত্রে কাজ করলেও সেটি মুক্তি পায়নি। তবে ‘বসু পরিবার’-এ অভিনয় করে তিনি প্রথম দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ দেয় চলচ্চিত্র জগতে স্থায়ী আসন। এটি ছিল সুচিত্রা সেনের বিপরীতে তার প্রথম ছবি। এর পর এ জুটি পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে অনেক সফল সিনেমা উপহার দেয়। এর মধ্যে আছে হারানো সুর, পথে হল দেরী, সপ্তপদী, চাওয়া পাওয়া, বিপাশা, জীবন তৃষ্ণা ও সাগরিকা।
উত্তম কুমার সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় অভিনয় করেন নায়ক ও চিড়িয়াখানা চলচ্চিত্র। ‘নায়ক’ দেখে যে কেউ ভাবতে পারেন এই গল্প উত্তমকে ভেবেই লেখা। অন্যদিকে ‘চিড়িয়াখানা’য় তিনি শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় সৃষ্ট বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর ভূমিকায় অভিনয় করেন।
