দোকানের রূপান্তর হোটেলে

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২০, ০৬:৪৬ এএম

বিশ্বের অনেক শহরে সাধারণ হোটেলে সকালে ঘুম ভাঙলে বোঝার উপায় থাকে না, আসলে কোথায় রয়েছি। তবে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার হোটেলগুলোতে পর্যটকরা পান ভিন্ন স্বাদ। সেখানে এক প্রকল্পের আওতায় পর্যটকরা প্রায় স্থানীয় মানুষের মতো শহরের অনবদ্য চরিত্র উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন।

২০১২ সালে টেরেসিয়া কোলমায়ার এই প্রকল্প শুরু করেছিলেন। স্থপতি হিসেবে তিনি ২৬টি খালি দোকানকে রূপান্তরিত করেছিলেন হোটেলে। আগে যেখানে মুচি বা দরজির দোকান ছিল, এখন সেখানে রাত কাটানোর জায়গা তৈরি হয়েছে। টেরেসিয়া বলেন, এর ফলে প্রত্যেক অতিথি শহরে নিজস্ব ঘর পাচ্ছেন, যেখানে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারেন। বাইরে বের হলেই নিজস্ব অ্যাডভেঞ্চার শুরু হতে পারে। গতানুগতিক হোটেলের ভবনে যে অবকাঠামো দেখা যায়, আমরা সেগুলোকে একই স্তরে পাড়ার মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছি।

নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে অতিথিরা এই প্রকল্পের আওতায় এমন ‘পাড়ার হোটেল’ খুঁজে পেতে পারেন। পাড়ার মধ্যে ক্যাফেতে প্রাতরাশ সেরে নেওয়া যায়। হোটেলের লবিতে সুভিনিয়ারের দোকানের বদলে অতিথিরা পাড়ার মধ্যেই টুকিটাকি কেনাকাটা করে নিতে পারেন। যেমন এক ডিজাইনারের গয়নার দোকান।

টেরেসিয়া কোলমায়ার অবহেলিত জায়গায় আবার প্রাণ সঞ্চার করতে খুব ভালোবাসেন। হোটেলের রিসেপশনের বদলে নির্দিষ্ট কোড টিপে ঘরের দোরগড়ায় বাক্স খুলে চাবি নিতে হয়। টেরেসিয়া বলেন, নতুন করে ঘর সাজানোর সময় আমরা প্রতিটি দোকানের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বজায় রাখি। 

অতিথিদের জানাতে চাই, আপনারা ভিয়েনায় এসেছেন, এক প্রাক্তন দোকানে রাত কাটাচ্ছেন, এটা কোনো গতানুগতিক হোটেলের ঘর নয়। অ্যাপের কল্যাণে পর্যটকরা পাড়া সম্পর্কে অনেক খবর পেয়ে যান। সারাদিন অনেক অভিজ্ঞতার পর চাবি মেরামতির সাবেক দোকান আবার শোবার ঘর হয়ে উঠল। দোকানের জানালায় ঘুমানোর অভিনব অভিজ্ঞতা এবং জানালার ওপারে ভিয়েনা শহরের অনবদ্য চরিত্র অনুভব করার সুযোগ দিচ্ছে এই প্রকল্প।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত