বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে ঝাড়ুদার ও তার দুই শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন বরগুনা পৌর শহরের কালিবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ইতি রানী এবং তার দুই মেয়ে ১২ বছর বয়সী আরাধা বিশ্বাস ও তিন বছর বয়সী অনুরাধা বিশ্বাস। লাশগুলো বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্বজন ও ডাকবাংলোর কর্মচারীদের সূত্রে জানা গেছে, ইতি রানী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে পার্টটাইম ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও তিনি কাজে আসেন। তবে এদিন প্রথমবারের মতো সঙ্গে নিয়ে আসেন দুই কন্যাকে। এরপর তিনি ডাকবাংলোর বিভিন্ন কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে অন্য কর্মচারীরা খোঁজ নিতে গিয়ে তৃতীয় তলার তিন নম্বর কক্ষে বড় মেয়ে আরাধা বিশ্বাসের মরদেহ দেখতে পান। পাশের ৪ নম্বর কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় বিষয়টি জেলা পরিষদ প্রশাসককে জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে ইতি রানী ও তার ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বড় মেয়ের মরদেহ বিছানার ওপর পড়ে ছিল। মায়ের রুম থেকে ঘুমের ওষুধের একটি খালি পাতা জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ডাকবাংলোর সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ইতি রানীর স্বজন শোভা রানী বলেন, ‘ইতি অনেক অভাব-অনটনের মধ্যে জীবন পার করছিল। কিন্তু নিজের দুই মেয়েকে খুব ভালোবাসত। ওদের ছাড়া কোথাও যেত না।’
পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও সুরতহাল রিপোর্ট পর্যালোচনার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
