ঢামেকে লাশের ছাড়পত্র নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৮

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২০, ০৬:৫৫ এএম

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ব্যক্তির মরদেহের ছাড়পত্র নেওয়াকে কেন্দ্র করে হাসপাতালটির কর্মচারীদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতরা সবাই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েক দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, পথচারী মো. মোস্তফা (২৮), জুনায়েদ পাভেল (২৫), বুলি (২২), আয়েশা মনসুর বিউটি (৩৫), মো. মনসুর (৪৫), আলআমিন (২০), আকাশ (২৫)সহ কয়েকজন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক কর্মাচারী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে একটি মৃতদেহ হাসপাতাল থেকে কাগজপত্র সই করিয়ে বের করা নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের দালাল পারভেজ ওরফে নোয়াখালী পারভেজের সঙ্গে নতুন ভবনের চুক্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত পারভেজ নামে আরেক স্টাফের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায় তাদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। সেই ঘটনার রেশ ধরেই গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের স্টাফ ও আওয়ামী লীগের ২০নং ওয়ার্ডের ঢাকা মেডিকেল ইউনিটের সভাপতি মো. রমিজ এবং হাসপাতালটির চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুল খালেক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

ঘটনাটির মীমাংসার জন্য বেলা ৩টার দিকে জরুরি বিভাগের বাইরে ৪র্থ শ্রেণির সমিতি কার্যালয়ে মিটিং চলছিল। এ সময় খালেকের লোকজন রমিজের লোকদের ওপর হামলা করে। পরে রমিজের লোকজনও হামলা করে। এতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের সময় দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ মহড়া দিতে দেখা যায় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. শিপন মিয়া জানায়, গতকাল রাতে এবং আজ দুপুরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার সমাধানের জন্য আজ বেলা ৩টার দিকে রমিজ ও আবদুল খালেককে নিয়ে সমিতি ঘরে বসা হয়েছিল। এই সময় সমিতির বাইরে আবারও সংঘর্ষ হয়। এতে দুই গ্রুপের কয়েকজন আহত হয়েছে।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার দিনে কয়েক দফায় এই মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে শাহবাগ থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত