প্রেমিকের সঙ্গে পালাতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২০, ০৫:০৮ পিএম

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় রবিবার মধ্যরাতে প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর সময় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পরে ওই স্কুলছাত্রীর বুদ্ধিমত্তায় ২ ঘণ্টার মধ্যেই ৫ ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ধর্ষকেরা সোমবার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্রের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিবাগত মধ্যরাতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের দশম শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রী (১৫) একই উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের গাছবাড়ী গ্রামের প্রেমিক শিমুল ইসলামের সঙ্গে প্রেমের টানে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পথে রাত সাড়ে ১২টার দিকে হরিরামপুর ইউনিয়নের নাওভাংগা গ্রামে পৌঁছালে শিমুল ও তার প্রেমিকার পথরোধ করে নাওভাংগা গ্রামের মৃত নীল মাহমুদের ছেলে এনামুল হক (৩০), আজিম উদ্দিনের ছেলে মো. রেজাউল (৩২), মো. ভোলার ছেলে মো. ধলু (২৭), মো. এজদুরের ছেলে মো. সুমন মিয়া (২৩) ও মো. শাহারুলের ছেলে মো. সাদ্দাম ওরফে সুজন কাজী (২৮)।

এই ৫ যুবক শিমুল ও তার প্রেমিকাকে মো. ধলুর বাড়িতে ধরে নিয়ে যায় ও রাত একটা থেকে দুইটা পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষকদের কাছে অনেক আকুতি-মিনতি করেও ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পায়নি ওই স্কুলছাত্রী। পরে এই ৫ যুবক শিমুল ও তার প্রেমিকাকে ছেড়ে দিলে দুজনে রাত সোয়া ৩ টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয় ও পুলিশকে সব জানায়।

পরে সব শুনে শিমুল ও তার প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে এসআই মো. মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে ধর্ষকদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পুলিশ সদস্যরা। প্রথমে পুলিশ মো. ধলুর বাড়ি শনাক্ত করে মো. সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে। পরে মো. সাদ্দামের দেওয়া তথ্যমতে ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে অন্য চারজন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে। পরে সোমবার সকালে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের হয় ও বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্রের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ধর্ষকেরা।

এ বিষয়ে এসআই মো. মামুনুর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিমুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রেম করেছে। রবিবার রাতে ওই স্কুলছাত্রীকে নিয়ে পালানোর সময় ৫ ধর্ষকের হাতে পড়লে প্রেমিক শিমুল কোন প্রতিবাদ করেনি। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের সময়ও কোন বাঁধা দেয়নি শিমুল। পরে ধর্ষণ শেষে কৌশলে ওই স্কুলছাত্রী তাকে তার প্রেমিক শিমুলের হাতে ছেড়ে দিতে বললে ধর্ষকেরা তাই করে। পরে স্কুলছাত্রীটি বুদ্ধি খাঁটিয়ে প্রেমিক শিমুলকে থানায় নিয়ে যায় ও সব ঘটনা খুলে বলে। পরে অভিযানে নেমে ৫ ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মেহেদি হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রী নিজেই বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে প্রেমিকসহ ৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। ওই স্কুলছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আদালতে ধর্ষকেরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত