কমলগঞ্জে অনেকেই পুঁতে ফেললেন কোরবানির পশুর চামড়া

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২০, ০৫:৩৪ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এ বছর কোরবানির ঈদে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা দামের পশু কিনে সে পশুর চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন বিক্রেতারা।

ঈদের দিন শনিবার পশু কোরবানি দিয়ে বিকেলে বাজারে গিয়ে সে চামড়া বিক্রি করেন পানির দামে। একটি গরুর চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে ৫০ থে ১০০ টাকা করে আর ছাগলে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে ১০ টাকা করে। বাজার মূল্য জেনে চামড়া পরিবহনে রিকশা ভাড়া হবে বিক্রিত মূল্যের দ্বিগুণ ভেবে অনেকেই মাটির গর্তে পুঁতে ফেলেছেন কোরবানির পশুর চামড়া।

প্রতি বছর কোরবানির ঈদের দিন বেলা ১টার পর থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে পশুর চামড়া এনে কমলগঞ্জ উপজেলা সদর, ভানুগাছ বাজার, শমশেরনগর, আদমপুর, পতনউষার, মুন্সীবাজারে অপেক্ষমাণ চামড়ার ক্রেতাদের কাছে বেশ ভালো দামে বিক্রি করা হতো।

এবার ছিল ভিন্ন চিত্র। গ্রাম থেকে বাজারে চামড়া নিয়ে এসে ক্রেতার খোঁজ পাওয়া যায়নি। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ২/১ জন ক্রেতা পেলেও একটি গরুর চামড়া ৩০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকায় কিনতে চান ক্রেতারা। আর ছাগলের চামড়া ১০ টা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম দিতে চান ক্রেতা। এ যেন পানির দামে পশুর চামড়া বিক্রি করা।

শমশেরনগর ইউনিয়নের শিংরাউলী গ্রামের ফজু মিয়া জানান, তিনি একটি বাসায় কাজ করেন। ঈদের দিন সে বাসার দুটি গরুর চামড়া নিয়ে বাজারে বিক্রি করেছেন মাত্র ৬০ টাকায়। আর তার রিকশা ভাড়া দিতে হয়েছে ৫০ টাকা।

 

ঘোষপুর গ্রামের রাসেল মিয়া বলেন, বাজারে ছাগলের চামড়া ১০ টাকা আর গরুর চামড়া ৬০-৭০ টাকা শুনে তিনি সেগুলো মাটতের গর্ত করে পুঁতে ফেলেছেন।

একই গ্রামের কনু মিয়া বলেন, গ্রাম থেকে একটি ছোট গরুর চামড়া এনে মাত্র ২০ টাকায় বিক্রি করেছেন। আর রিকশা ভাড়াও দিয়েছেন ২০ টাকা। 

কমলগঞ্জ পৌরসভার নছরতপুর গ্রামের জামি আহমেদ বলেন, চামড়ার বাজারের পরিস্থিতি জেনে তিনি মাটির গর্তে পুঁতে ফেলেন।

শমশেরনগরের শিংরাউলী গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি বাজারের অবস্থা জেনেই গরুর চামড়া মাটির গর্তে পুঁতে ফেলেছেন। আগে মাদ্রাসায় চামড়া দিয়ে দেওয়া হত। এবার চামড়ার বাজার খুবই খারাপ থাকায় কোনো মাদ্রাসা চামড়া গ্রহণ করেননি।

কমলগঞ্জ উপজেলা সদরের চামড়া ব্যবসায়ী হুছন মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিনি ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সাইজ বুঝে ১৫০ টাকা দিয়ে প্রতিটি গরুর চামড়া কিনেছেন। এ বছর ৩ থেকে ৪ শত চামড়া তিনি কিনেছেন। কেনা চামড়াগুলো প্রাথমিকভাবে লবন দিয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।

আরেক চামড়া ব্যবসায়ী ফজলু মিয়া জানান, বড় সাইজের গরুর চামড়া তিনি ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা দরে কিনেছেন। আর মাঝারি সাইজের গরুর চামড়া গড়ে ১৫০ টাকা ধরে কিনেছেন।

চামড়া বিক্রেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, কেনা চামড়াগুলো এখনও ঢাকার চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে পারেননি। সময়মত ঢাকার চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে না পারলে তাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত