রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় চার জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার হাতিরঝিলে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাড্ডার সাঁতারকুল থেকে গত শুক্রবার রাতে উদ্ধার করা হয়ছে স্বামী-স্ত্রীর লাশ। এছাড়া পুরান ঢাকার গণকটুলিতে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় থানা পুলিশ ও আত্মীয়রা তাদের উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠিয়েছে। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আবদুল খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাতিরঝিল এলাকা থেকে মঙ্গলবার সকালে একটি কাঁঠালগাছ থেকে অজ্ঞাত (৪৫) এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়। হাতিরঝিল থানার এসআই খন্দকার সেলিম শাহরিয়ার জানান, হাতিরঝিলের আকিজ গলির মুখে একটি কাঁঠালগাছে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়। ওই ব্যক্তির পরনে ছিল লুঙ্গি। ধারণা করা হচ্ছে তাকে কোথাও হত্যার পর লাশ কাঁঠালগাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। স্থানীয় কেউ তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন হাতিরঝিল থানার এসআই শাহরিয়ার খান।
অন্য এক ঘটনায় রাজধানীর বাড্ডায় সাঁতারকুল এলাকায় পোশাক শ্রমিক রফিকুল ইসলাম (২১) ও তার স্ত্রী জান্নাতের (১৯) লাশ শুক্রবার রাতে উদ্ধার করা হয়। অচেতন অবস্থায় রফিকুলকে উদ্ধার করেন তার বাবা জালালউদ্দিন। জালাল জানান, দেড় বছর আগে জান্নাতের সঙ্গে তার ছেলে রফিকুলের বিয়ে হয়। রফিক ও জান্নাত সাঁতারকুল রহমতউল্লাহ গার্মেন্টসের পেছনে একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। কয়েক দিন থেকে খোঁজ না মেলায় শুক্রবার রাতে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন জান্নাত ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে, আর তার ছেলে রফিক বিছানায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। ছেলের গলায় দাগ ছিল। কী কারণে ছেলে ও তার ছেলের বউয়ের মৃত্যু হয়েছে জালাল মিয়া সে বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেননি। বাড্ডা থানার ওসি পারভেজ ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি স্বামী-স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে হাজারীবাগের গণকটুলি এলাকায় আশা আক্তার (১৮) নামে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় তার স্বামী আব্দুল্লাহকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গত ২ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্বামী আব্দুল্লাহ তাকে অচেতন অবস্থায় পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আব্দুল্লাহ জানান, তাদের বাড়ি কুড়িগ্রাম। দুই পরিবারের অমতে গত দুই মাস আগে বিয়ে করেন। গণকটুলিতে এক রুমের বাসায় ভাড়া থাকতেন। ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে তার স্ত্রী খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে ওই রাতে সে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ঢামেকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল খান জানান, আশার মৃত্যু রহস্যজনক মনে হয়েছে।
