যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল হেলথ লিডার কনফারেন্সে অংশ নিয়ে শিশুশ্রম দূর করতে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোরী সামারা রেজোয়ান।
১৪ বছর বয়সী সামারা পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ওয়াসা শহরে বাস করলেও প্রায় প্রতি বছর বাংলাদেশে আসে। ঢাকার উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্য বিষয়ক ক্যাম্পে অংশ নিয়েছে সে।
এবিসি নেটওয়ার্ক-অনুমোদিত টেলিভিশন ডব্লিউএওডব্লিউ’র চ্যানেল ৯’র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই লকডাউনের সময় সামারা বাড়িতে সময় নষ্ট না করে সমবয়সী শিশুদের জীবনমান নিয়ে ভাবতে থাকে। সেই ভাবনা থেকেই তার গবেষণার কাজ শুরু।
সামারা সংবাদমাধ্যমটির কাছে এভাবে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরে, ‘আমার মনে হয়েছে আমার যে সুযোগ-সুবিধা আছে তা দিয়ে কিছু একটা করা উচিত।’
উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে থেকে এই কনফারেন্সে একমাত্র সামারাই সুযোগ পেয়েছে।
‘আমার মনে হয় শিশুশ্রম নিয়ে কেউ খুব বেশি কথা বলে না। তাই আমি এ বিষয়টি ভেবেছি। ’
সামারার মা লোপা কবির সিলেটের মেয়ে। লোপার বাবা মোহাম্মদ কবির উদ্দিন আহমেদ ছিলেন সিলেট মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের প্রধান। ১৯৫৬ সালে তিনি এমবিবিএস পাশ করেন। খ্যাতনামা এই চিকিৎসক ১৯৬৭ সালে ব্রিটেন থেকে এফআরসিএস করে দেশে ফিরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন। পরে যান জন্মভূমি সিলেটে।
এমন বাবার মেয়ে হয়ে লোপা নিজের সন্তান ‘দুধেভাতে’ আছে বলে তাতেই খুশি থাকতে পারেননি। ভেবেছেন অন্যের সন্তানদের নিয়েও, ‘আমার বাচ্চারা যুক্তরাষ্ট্রে বড় হচ্ছে। প্রতিদিন তারা স্কুলে যায়, বাড়ি ফেরে, ভালো খাবার খায়। আমার মনে হয়েছে অন্যদের অবস্থাটাও তাদের দেখা উচিত।’
সামারার কথা শুনে বোঝা গেলে মায়ের এই ভাবনাকে অন্তরে ধারণ করেই সে বড় হচ্ছে, ‘আমার থেকে কম বয়সী অনেকে প্রখর তাপমাত্রায় রাস্তার পাশে কাজ করে। ইট ভেঙে টাকা উপার্জন করে। অনেকে আবার কাজে নামতে বাধ্য হয়।’
‘শিশুশ্রম দূর করতে হলে আমাদের এক হয়ে কাজ করতে হবে। শুধু চোখ-কান খোলা রেখে নিজেদের জায়গা থেকে তাদের সাহায্য করলেই হয়।’
কনফারেন্সে বক্তব্য দেয়ার সময় সামারা শিশুদের জন্য তহবিল সংগ্রহে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায়।
