মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের কাজ লঙ্গুছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির বাধায় গত সোমবার থেকে বন্ধ রয়েছে। সমিতির দাবি, তাদের মাধ্যমে এ স্থানে বাঁধ মেরামত করেছে এলজিইডি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মাস কয়েক আগে গ্রামবাসী, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা দাবি করেন ধলাইরপার গ্রামের নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বাঁধ মেরামত করতে। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুই মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার নিয়োগ করে ধলাইরপার এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করে। গত সোমবার পর্যন্ত বাঁধের ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্নও হয়। কিন্তু এরই মাঝে স্থানীয় লঙ্গুছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমিতি ধলাইরপার এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজের ওপর আপত্তি জানালে কাজ বন্ধ রাখা হয়।
মাধবপুর ইউনিয়নের সদস্য (মেম্বার) মোতাহের আলী জানান, গ্রামবাসীসহ তাদের অনুরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ধলাইরপার এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধের মেরামত কাজ শুরু করে। কিন্তু গত সোমবার লঙ্গুছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমিতি এ কাজে আপত্তি জানিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। নদ-নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভালো কাজ করবে বলেও তিনি দাবি করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্ত্তী দেশ রূপান্তরকে বলেন, এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ধলাইরপার গ্রাম এলাকায় ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করা হয়েছিল। প্রাায় ৬০ শতাংশ কাজও শেষ। এখন হঠাৎ করে লঙ্গুছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমিতি আপত্তি জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের দাবি এ স্থানটি এলজিইডির নিয়ন্ত্রণে। এলজিইডি এসে সীমানা নির্ধারণ করে যাক কতটুকু স্থান তাদের। তাহলে এ স্থানের বাইরে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করবে। কাজ শুরুর সময় আপত্তি জানালে কাজটি বন্ধ করা যেত। এখন কাজ বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই।
এলজিইডি কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, ধলাইরপার গ্রামে লঙ্গুছড়া পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির মাধ্যমে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধে কাজ করা হয়েছে। তাদের কাজের ওপর পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। এ স্থানে এলজিইডি কাজ করবে। তাই তারা আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এলজিইডির সঙ্গে সমন্বয় করে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধে কাজ করুক।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, এখানে সমন্বয়ের কিছু অভাব রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কাল (আজ বুধবার) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করে দেব।
