নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় ছাত্রলীগ কর্মীকে ছাত্রদল বানিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও মারপিটের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. কাইয়ুম আহমেদ (১৭)।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ করেন কাইয়ুম। তিনি উপজেলার ধানশিরা গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে।
এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১১ আগস্ট বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ‘যুবলীগ কর্মীকে মারধরের ঘটনায় দুর্গাপুর থানার ওসি ক্লোজড’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে আমাকে ছাত্রদল কর্মী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সেখানে আমার পিতার নাম ও ঠিকানাও ভুলভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। আমার বাবা আওয়ামী লীগের একজন কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে আমি নিজেও আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হয়ে দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছি।
তিনি জানান, গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় দুর্গাপুর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে পৌরসভার কাচারীমোড় থেকে আলম তালুকদারের নেতৃত্বে আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমার সাথে থাকা মোহাম্মদ জিএম মিয়া ও মোহাম্মদ মাহবুব কোন রকমে নিজেদের জীবন বাঁচিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমার হাত-মুখ বেঁধে অপহরণ করে মেছুয়া বাজারে ইয়াকুব তালুকদারের বাসায় নিয়ে মারপিট করে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে মোবাইল ফোনে আকাশ তালুকদারকে মারার জন্য আমি দুর্গাপুরে এসেছি এমন মিথ্যা জবানবন্দি দিতে বলে। আমি এই মিথ্যা জবানবন্দি দিতে রাজি না হলে পুনরায় কয়েক দফায় লাঠি-সোঁটা, বেল্ট, স্ট্যাম্প ও চেইন দিয়ে বেদম পিটিয়ে আমাকে আহত করে। একপর্যায়ে সোহাগ তালুকদার রামদা দিয়ে আমাকে আঘাত করতে আসলে তাদের একজন আঘাতটি প্রতিহত করায় অল্পের জন্য আমি প্রাণে বেঁচে যাই, তবে রামদার বাঁটের আঘাত বাম চোখে লাগলে আমি গুরুতর প্রাপ্ত হই। আমাকে ধরার সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আলম তালুকদার পাকা সড়কে পড়ে মাথায় আঘাত পায়।
এদিকে আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পরিবারের লোকজন জানতে পেরে দুর্গাপুর থানা-পুলিশের সহায়তায় আমাকে ইয়াকুব তালুকদারের বাসা থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরে আমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ইয়াকুব তালুকদারের বাসা থেকে রামদা, চেইন ও লাঠিসোঁটা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বিভিন্ন অনলাইন ও পত্র পত্রিকায় আমাকে ছাত্রদল কর্মী হিসেবে হিসেবে আখ্যায়িত করে মারপিটের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চাইছে। পত্র-পত্রিকায় এ ধরনের অপপ্রচারে আমি এবং আমার পরিবার মর্মাহত। সেই সাথে ওই দিনের ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান তিনি।
‘ঘটনার রাতে আপনাকে উদ্ধারের সময় কাকে কাকে থানায় আনা হয়েছিল ও পরে কি ঘটনা ঘটেছিল’ দেশ রূপান্তরের এমন প্রশ্নের জবাবে কাইয়ুম বলেন, আমাকে উদ্ধার করে আলম তালুকদারসহ ইমন ও আকাশকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। ওসি মিজান জানতে চাইলে ঘটনা খুলে বলি। পরে আলম তালুকদারকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে লুঙ্গি পড়ে আমি নাকি রামদা নিয়ে আকাশকে মারতে এসেছিলাম। ওসি স্যার সিসিটিভির ফুটেজে দেখে ওই সময় আমার পরনে প্যান্ট ও কফি কালারের গেঞ্জি ছিল। এ নিয়ে ওসি স্যার আলমকে ধমক দিলে আলম তালুকদার ঘটনা খুলে বলে, আমাকে মেরে রামদা দিয়ে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। মারপিটের সময় পড়নে কফি কালারের গেঞ্জি চিড়ে গেলে আমাকে আকাশের গেঞ্জি পড়ানো। আমার কফি কালারের ছেঁড়া গেঞ্জিটি থানায় আছে বলে তিনি জানায়।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কাইয়ুম আহমেদের মা হাফিজা খাতুন, নানি ফাতেমা বেগম ও ভাই মো. সানি মিয়াসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
এ বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আক্কাছ উদ্দিন ভূঁইয়াকে প্রধান করে তিন সদস্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১২ আগস্ট সারা দিন ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন সহ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এ তদন্ত কমিটি। এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানা পরিদর্শক (তদন্ত) মীর মাহাবুব।
