বিষ দিয়ে ৫ কোটি টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২০, ০৭:০৪ পিএম

সাভারে প্রাণ-প্রকৃতি নামে এক মৎস খামারে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৫ কোটি টাকার এক শ টন মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার সকালে সাভারের জিরাবো এলাকার দেওয়ান ইদ্রিস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকার ওই খামারে গিয়ে মরা মাছের স্তূপ দেখা গেছে। পুরো এলাকার বাতাসে মরা মাছের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।

মৎস্য খামারি শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী বলেন, প্রায় ৪০ বিঘা জায়গাজুড়ে খামার করে দীর্ঘদিন ধরে মাছের চাষ করে আসছি আমরা। বৃহস্পতিবার রাত থেকে হঠাৎ খামারের মাছগুলো মরে পানিতে ভেসে উঠতে শুরু করে। এ সময় ৩০ থেকে ৪০ জন লোক নিয়ে প্রায় ৩০ টন মাছ অপসারণ করে মাটিতে পুতে রাখা হয়। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ টন মাছ মরে পানিতে ভেসে ওঠায় আমাদের প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তার বড় ভাই শরিফুল ইসলাম ব্যাপারী আলমাস বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে প্রায় ২২ বছর ধরে মাছের চাষ করলেও বিগত দিনে এমন ঘটনা ঘটেনি। কেউ পূর্ব শত্রুতার জেরে পানিতে বিষ মিশিয়ে দিতে পারে। এই খামারে ১০ বছর বয়সেরও বড় বড় মাছ ছিল যার সব মরে গেছে। দুর্বৃত্তরা শুধু মাছই মারেনি, তারা জেলেসহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোকের জীবিকায় বিষ দিয়েছে।

শরিফুল ইসলাম ব্যাপারী আরো বলেন, আমরা সাভার উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের নথিভুক্ত চাষি। ২০১৬ সালে আমরা সাভার উপজেলার সেরা মৎস্য উদ্যোক্তা নির্বাচিত হয়েছিলাম। কে বা কারা আমাদের খামারের পানিতে বিষ মিশিয়ে এত বড় ক্ষতি করল, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। 

সাভার উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ বলেন, পুকুরে মাছ মরে ভেসে ওঠার খবর পেয়ে আমাদের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে পানি পরীক্ষা করে সমস্যা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অক্সিজেনের পরিমাণ কম এবং অ্যামেনিয়া ও পিএইচ এর পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে। পানিতে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে কি না তা নিরূপণের যন্ত্রপাতি আমাদের মৎস্য অধিদপ্তরে নাই।

তিনি বলেন, সাধারণত পানিতে পিএইচ থাকার কথা সাড়ে ৭ থেকে সাড়ে ৮ সেখানে পাওয়া গেছে ৯ এর ওপরে, অ্যামোনিয়া থাকার কথা দশমিক শূন্য ৫, কিন্তু পাওয়া গেছে দশমিক ৫ যা অনেক বেশি এবং অক্সিজেন থাকার প্রয়োজন সর্বনিম্ন ৫, সেখানে মাত্র ২ পাওয়া গেছে।

এলাকাবাসীরা জানায়, জিরাব গ্রামের মৃত চান মিয়া ব্যাপারীর পাঁচ ছেলে  নিজস্ব ৪০ বিঘার মৎস্য খামারে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে রুই, কাতলা, সিলভার কার্প, ব্রিগহেড কার্প, ট্যাংরা, কালবাউশ এবং দেশি পুঁটি মাছের চাষ করে আসছিলেন। কিন্তু কী কারণে তাদের  খামারের মাছের এমন হলো এটা দেখে আমরা সবাই খুবই কষ্ট পাচ্ছি। এ ছাড়া এতগুলো মাছ পচে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরিবেশও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আরা নিপা বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত