স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক সংগঠক, অভিনেতা ও নির্দেশক সৈয়দ হাসান ইমাম। জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করলেন তিনি। কথা বলেছেন আল মাসিদ। ছবি : শেখ সাদী
শোক দিবসের আয়োজন...
প্রতি বছর ১৫ আগস্ট এলে নানা ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে শুরু করে অন্য সংগঠনের আয়োজনেও শামিল থাকতে হয়। কিন্তু এ বছর করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে তেমন কোনো আয়োজন নেই। তবে অনলাইনে ঠিকই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নানা আয়োজন হয়েছে দেশ-বিদেশে। আমি এরই মধ্যে নিউ ইয়র্ক, কানাডা, ঢাকা, খুলনাসহ বেশকিছু জায়গার বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে লাইভ অনুষ্ঠানে কথা বলেছি। আজও দুটি লাইভ অনুষ্ঠানে অংশ নেব। একটি নিউ ইয়র্কের, অন্যটি অভিনেতা-নির্মাতা শাহাদাৎ হোসেন নিপুর সংগঠন থেকে।
স্মরণ...
আসলে আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করি তারা প্রতিদিন প্রতিটি কাজে তাঁকে স্মরণ করি। ভাবি, এ সময়ে তিনি বেঁচে থাকলে কী বলতেন, কী সিদ্ধান্ত নিতেন। সেই ভাবনা থেকে যে সমাধান বেরিয়ে আসে সে অনুযায়ী কাজ করি। এই যে শোক দিবসের এতগুলো লাইভ অনুষ্ঠান করছি, তার একটাই কারণ। তা হলো আমরা তার যে আদর্শ, দেশপ্রেম, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে কাছ থেকে দেখেছি তা এই প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে। যাতে তারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনোরকম কনফিউশনে না থাকে।
স্মৃতি...
আমার দাদি বঙ্গবন্ধুর আত্মীয়, এ কথা অনেকেই জানেন না। তবে অন্য কারণে অনেক ছোটবেলা থেকেই তাকে দেখেছি। তখন তিনি বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেননি। আমার ছোটবেলা কেটেছে নানাবাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। তখন তিনি কলকাতাতেই পড়াশোনা করতেন। আমার নানা ও মামারা রাজনৈতিকভাবে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে ছিলেন। সেই সুবাদে বঙ্গবন্ধুসহ অনেক নেতাকর্মী নানাবাড়িতে আসতেন, নানির হাতের রান্না খেতেন। বঙ্গবন্ধু সে সময় আমাকে দু-একবার চকলেট আর বিস্কুট উপহার দিয়েছেন। পরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করার পর তার সঙ্গে নতুন সম্পর্ক শুরু।
বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে...
স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমাকে আহ্বায়ক করে গঠিত হয় শিল্পীদের প্রতিবাদী সংগঠন বিক্ষুব্ধ শিল্পীসমাজ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে পাকিস্তান বেতার ও টেলিভিশনের অনুষ্ঠান বর্জন করেছিলাম আমরা। গণআন্দোলনের চাপে পাকিস্তানি সরকার ৮ মার্চ থেকে বেতার টেলিভিশনের দায়িত্ব বিক্ষুব্ধ শিল্পীসমাজের হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ২৫ মার্চের পর আমি মুজিবনগর চলে যাই এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিই। স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের নাট্য বিভাগের প্রধানের দায়িত্বও পালন করেছি। সে সময় বঙ্গবন্ধু আমাকে শিল্পকলা প্রতিষ্ঠার কথা বলেন। এমনকি তখন ভারত সরকার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক শাখায় যে বৃত্তি দিয়েছিল তার কাঠামো আনতে বঙ্গবন্ধু আমাকে ভারতে যেতে বলেছিলেন।
শেষ দেখা...
তার সঙ্গে শেষ দেখা বঙ্গভবনে ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে, অর্থাৎ তার মৃত্যুর এক মাস আগে। আমি আর স্ত্রী লায়লা হাসান আমেরিকার একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য তার কাছে অনুমতি আনতে গিয়েছিলাম। তিনি অনুমতি দিয়ে বলেছিলেন, তাড়াতাড়ি ফিরে এসো, অনেক কাজ করতে হবে। আমি ১৫ আগস্টের আগেই ফিরে এসেছিলাম, কিন্তু তার সঙ্গে আর দেখা করা হয়ে ওঠেনি। এই আফসোস আমার আজীবন থাকবে।
