মুর্তজা বশীরের চিত্রনাট্যে তৈরি হয় বিখ্যাত ‘নদী ও নারী’

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২০, ০২:০৪ পিএম

ব্যক্তি ও কর্মজীবনে বর্ণাঢ্য কয়েক দশক পার করেছেন সদ্য প্রয়াত মুর্তজা বশীর। চিত্রশিল্পের পাশাপাশি সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি আছে তার। অল্প বয়সে চলচ্চিত্রের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।

সাদেক খানের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘নদী ও নারী’র চিত্রনাট্য করেন মুর্তজা বশীর। প্রধান সহকারী-শিল্প নির্দেশকও ছিলেন তিনি। এটি ছিল ঢাকাই চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অন্যতম প্রয়াস।

নিজের আত্মজীবনীতে ছবিটি সম্পর্কে চিত্রশিল্পী মূর্তজা বশীর লেখেন, “সাদেক খান তার আর্ট এনসেম্বল গ্যালারিতে পরিচালক পদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালেন। প্রেসক্লাবের উল্টোদিকের ভবনের দোতলায় ছিল সেই গ্যালারি। সাদেক ‘লুব্ধক’ নামে একটা প্রোডাকশন হাউসও করেছেন। সেখান থেকে ‘নদী ও নারী’ সিনেমাটি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাদেক জানতেন যে চলচ্চিত্রশিল্পের প্রতি আমার বিশেষ অনুরাগ রয়েছে। সাদেক আগে একটি উর্দু ছবি করতে চাইলেন, তার স্ক্রিপ্ট লিখতে বললেন আমাকে। ‘কারওয়া’ নামে চলচ্চিত্রটির কাহিনি, চিত্রনাট্য আমি তৈরি করলাম।”

আরও বলেন, “হুমায়ূন কবিরের ‘নদী ও নারী’ উপন্যাসটির চিত্রনাট্যও করলাম। বলা যায়, কাহিনির আমূল পরিবর্তন করলাম। নতুন নতুন চরিত্র সৃষ্টি তো করেছিলামই, সেই সঙ্গে উপন্যাসের কোনো কোনো চরিত্রের সংলাপের ক্ষেত্রে একজনেরটা আরেকজনের মুখে বসিয়ে দিয়েছি। অবশ্য ঔপন্যাসিকের অনুমতি নেওয়ার জন্য চিত্রনাট্য পাঠানো হয়েছিল। চিত্রনাট্য পড়ে হুমায়ূন কবির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন। সিনেমাটি অবশ্য চলেনি। গুলিস্তান হলে প্রদর্শিত হতে পেরেছিল মাত্র দুই দিন। খুবই এক্সপেরিমেন্টাল ছিল ছবিটি। ব্ল্যাঙ্ক ফ্রেম, ফ্রিজশট, ফ্ল্যাশব্যাকের আধিক্য— এ সব টেকনিক সেকালের নিরিখে বেশ অগ্রসর ছিল।”

হুমায়ূন কবিরের ইংরেজি উপন্যাস ‘নদী ও নারী’ প্রকাশ হয় ১৯৪৫ সালে। ১৯৫২ সালে প্রকাশ হয় বাংলা অনুবাদ। সাদেক খানের পরিচালনায় প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেন আবদুল খালেক ও রওশন আরা। আরও ছিলেন সুভাষ দত্ত, মাসুদ খান ও গোলাম মুস্তাফা। মুক্তি পায় ১৯৬৫ সালের ৩০ জুলাই।

মুর্তজা বশীর শনিবার সকাল ৯টা ১০মিনিটের দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি করোনা পজিটিভ ছিলেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদ্‌রোগ, ফুসফুস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন।

করোনা উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন খ্যাতিমান এই চিত্রশিল্পী। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

মুর্তজা বশীর ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকার রমনায় জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।

বাংলাদেশে বিমূর্ত বাস্তবতার চিত্রকলার অন্যতম পথিকৃৎ মুর্তজা বশীরের ‘দেয়াল’, ‘শহীদ শিরোনাম’, ‘পাখা’ ছাড়াও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য চিত্রমালা রয়েছে।

চিত্রকলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৮০ সালে একুশে পদক পান মুর্তজা বশীর আর স্বাধীনতা পুরস্কার পান ২০১৯ সালে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত