বিচারবহির্ভূত হত্যা ইস্যুতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণআদালত বসানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে খুন-গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যা ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার নিহতের বিচার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন বলেন, আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনারা জনগণের সেবক, আপনারা রাষ্ট্রের কর্মচারী আর রাষ্ট্রের মালিক হলো জনগণ। সেই মালিককে আপনারা যখন নির্বিচারে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেন আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত। এটি বন্ধ করেন, তা না হলে বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না, ইতিহাস আপনাদের কখনও ক্ষমা করবে না। অবশ্যই একদিন আপনাদের বিচার হবে। আমরা এই প্রেসক্লাবের সামনে গণআদালত বসাব। জনগণ হবে এর বিচারক। যারা বিচারবহির্ভূত হত্যা করেছেন সবার তালিকা আমাদের কাছে আছে। তাদের সবার বিচার হবে গণআদালতে। এটাই শেষ কথা, কাউকে ক্ষমা করা হবে না।
ইশরাক হোসেন বলেন, আপনারা জানেন, কয়েকদিন আগে একজন নিরস্ত্র সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে কীভাবে গুলি করে মারা হয়েছে। এটা কি আমরা এই বাংলাদেশে প্রথম দেখতে পেয়েছি? ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শুধু বিরোধী দলকে দমন করার জন্য তারা খুন, গুম, হত্যা, মামলা-হামলার পথ বেছে নিয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশে এমনটি তো হওয়ার কথা ছিল না।
তিনি বলেন, আমি আমার বাবার সঙ্গে বাংলাদেশকে নিয়ে দীর্ঘ সময় আলাপ করতাম। তিনি বলতেন- ‘যেই গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন করতে গিয়ে আমরা পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ করেছি আজকে প্রায় ৫০ বছর হলো সেই গণতন্ত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি না’। আমি বলতে চাই, আমরা আজকে যে প্রতিবাদ করছি সেটা যদি এই সরকার শুনতে না পান আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
তিনি আরো বলেন, এ দেশে সব জনগণের সমান অধিকার। দেশের সকলের সমানভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হবে আর আমরা সেটা দেখব- তা বেশিদিন সহ্য করা যায় না।
ইশরাক বলেন, আমার বাবা একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এই ঢাকা শহরে আমার বাবা যুদ্ধ করেছিলেন এবং পাকিস্তানিদের বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করেছিলেন। আমি সেই বাবার সন্তান। সবার সামনে প্রতিজ্ঞা করছি, শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত আপনাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার সংগ্রাম চালিয়ে যাব। এটা কোনো একদলের বিষয় নয়, কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়- এটা গোটা বাংলাদেশের বিষয়। তাই আমি অনুরোধ জানাব, দেশের সব স্বাধীনচেতা মানুষ আপনারা যে যেখানে আছেন, আমি জানি আওয়ামী লীগেও অনেক ভালো মানুষ রয়েছেন- তারা আজকের এই বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধা করেন নাই, আপনারাও আমাদের এই কাতারে শামিল হন, জনগণের কাতারে শামিল হন।
