করোনা বদলে দিয়েছে সারা বিশ্বকে। এই ভাইরাসের আতঙ্ক বাধ সাধছে মানুষের শেষযাত্রায়। এর মধ্যে করোনায় মৃত্যু হলে তো কথাই নেই। এই যেমন; মোবাইলে পড়া হলো মুখাগ্নির মন্ত্র।
হিন্দু শাস্ত্রমতে মৃতের মুখাগ্নির সময় পুরোহিতকে মন্ত্রপাঠ করতে হয়। ভারতীয় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর নেপথ্য রয়েছে করোনাভাইরাস, এই সন্দেহে ফোনেই মন্ত্রপাঠ সারলেন পুরোহিত! অন্যদিকে একহাতে মোবাইল ফোন কানে ধরে আরেক হাতে বাবার মুখাগ্নি করলেন মেয়ে।
সংবাদ প্রতিদিন জানায়, করোনা আবহে এমন বিরল দৃশ্যের সাক্ষী হলো পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম থানার দ্বারিয়াপুর গ্রাম।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখার্জি পাড়ার বাসিন্দা তপন মুখোপাধ্যায় দিন চারেক ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। রবিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় বৃদ্ধের স্ত্রী ডলি দেবী গাড়ি ভাড়া করে গুসকরায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। মাঝপথেই তপনের মৃত্যু হয়। ফলে হাসপাতালে না গিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে বাড়ি চলে যান তারা।
কিন্তু মৃত্যুর খবর স্থানীয়রা জানার পরই সমস্যা তৈরি হয়। কারণ, গ্রামবাসীরা ধরেই নেন বৃদ্ধের মৃত্যুর কারণ করোনা। তাই সৎকারে যাওয়ার জন্য এগিয়ে আসেননি কেউ। শেষে কয়েকজন যুবক বৃদ্ধের দেহ একটি ভ্যানে চাপিয়ে শ্মশানে নিয়ে যান। পরে মৃতের ছোট মেয়ে ও দু-একজন আত্মীয় মুখাগ্নির জন্য শ্মশানে যান। কিন্তু করোনা সংক্রমণের আতঙ্কে পুরোহিতও যাননি শ্মশানে।
মৃতের ছোট মেয়ে রুনু মুখোপাধ্যায় বলেন, “বাবার দীর্ঘদিন ধরে সুগার ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিল। তারপর রবিবার বাবার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর করোনা আতঙ্কে পুরোহিত শ্মশানে যায়নি। উনি ফোনে মন্ত্রপাঠ করেন। তাই শুনে আমি বাবার মুখাগ্নি করি।”
আরও দাবি করেন, করোনায় তার বাবার মৃত্যু হয়নি। এ বিষয়ে তারা নিশ্চিত।
