জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী এবং তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীসহ আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সরাফুজ্জামানের আদালতে অভিযোগ গঠন করে।
অভিযোগ গঠনের সময় আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চান।
দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।
এর আগে করোনার রিপোর্ট জালিয়াতির মামলায় জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ও তার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীসহ আট আসামিকে দুপুর ১২টার দিকে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়।
আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবী তখন আদালতের কাছে দাবি করেন, এই মামলার কাগজপত্রের নকল কপি তারা পাননি। যে কারণে তারা মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করতে পারেননি। এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির নতুন দিন ঠিক করা হোক।
আসামিপক্ষের ওই আবেদনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ সরকারি কৌঁসুলি আবু আবদুল্লাহ আদালতকে বলেন, এই মামলাটি একটি আলোচিত মামলা। এ মামলার অন্য আসামিরা মামলার কাগজপত্রের নকল কপি পেয়েছেন। যারা কাগজপত্র পাননি, সেটি তাদের ব্যর্থতা। আমরা চাই, এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি হোক।
উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে ম্যাজিস্ট্রেট সরাফুজ্জামান আনসারী মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দুপুর আড়াইটার সময় ঠিক করেন। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ বক্তব্য শুনে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
৫ আগস্ট ভুয়া করোনার রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান চিকিৎসক সাবরিনা আরিফ চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিএমপি)।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, করোনা জালিয়াতিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন জেকেজির সাবরিনা ও তার স্বামী জেকেজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক চৌধুরী। এ দুজন ছাড়াও মামলার অন্য ছয় আসামি হলেন জেকেজির সমন্বয়ক সাঈদ চৌধুরী, জেকেজির সাবেক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, তার স্ত্রী তানজিনা পাটোয়ারী, বিপ্লব দাস, শফিকুল ইসলাম ও জেবুন্নেসা।
মামলা থেকে মামুনুর রশীদ নামের আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মামলা করার ৪২ দিনের মাথায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
