জোয়ারে ভাসল বরিশাল নগরী

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২০, ০৮:১৫ এএম

কীর্তনখোলার জোয়ারের পানিতে সয়লাব বরিশাল মহানগরী। অধিকাংশ এলাকায় সড়কে হাঁটুপানি জমে গেছে। দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে ডুবে আছে নগরীর নিচু এলাকা। অনেক বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে জোয়ারের এ পানি। এতে চরম ভোগান্তি পড়েছে নগরবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ বেতার ভবনের চারদিকে পানিতে ডুবে গেছে। নগরের বটতলা-নবগ্রাম রোডে অনেক বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে পানি। বগুড়া রোড, শ্রীনাথ চ্যাটার্জী লেন, বিএম স্কুল রোড, কাউনিয়া মনষাবাড়ি গলিতে হাঁটুসমান পানি। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটিখানা এলাকার একাংশ, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দ্রপাড়া, কাউনিয়া প্রধান সড়ক, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গগন গলি, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাজার রোড, হাটখোলা এলাকার বিভিন্ন স্থানে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। নগরের পলাশপুর এলাকার বেশিরভাগ বাড়ি ও দোকানপাটের মধ্যে হাঁটুসমান পানি জমে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরিশাল কার্যালয় জানিয়েছে, বরিশালে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বরিশাল নগরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কীর্তনখোলার পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার, হিজলার ধর্মগঞ্জ নদীর পানি ১৮ সেন্টিমিটার, মির্জাগঞ্জের বুড়িশ্বর বা পায়রা নদীর পানি ৬৪ সেন্টিমিটার, আমতলীর বুড়িশ্বর বা পায়রা নদীর পানি ৩৭ সেন্টিমিটার ও বরগুনার বিষখালী নদীর পানি ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, একটু বৃষ্টি হলেই নগরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বড় বড় খালগুলো ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ করায় নগরের পানি অপসারণে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। সরু নালা দিয়ে যতক্ষণে পানি অপসারণ হবে তার মধ্যেই আবার জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় জলাবদ্ধতা তীব্র হচ্ছে।

বরিশাল নগর সৌন্দর্য রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিনেও বরিশাল সিটি করপোরেশন খাল সংরক্ষণ কিংবা সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো বিভিন্ন সময় খাল ভরাট করে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে অমাবস্যা এবং বৃষ্টিতে নগরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।’

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান বলেন, ‘জোয়ার ও বৃষ্টির কারণে নগরীর অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। খাল দিয়ে ভালোভাবে পানি না নামায় এ সমস্যা দেখা দেয়। খালগুলো সংস্কারের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সংস্কার হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত