রাজধানী থেকে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা কমিয়ে অন্য জেলায় পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলছে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে কুকুরগুলো না খেয়ে মরবে। কারণ জেলা শহরগুলোতে কুকুরের কেউ দেখভাল করবে না। এই নিয়ে আগামী রবিবার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সামনে তারা মানববন্ধন করবে বলে জানা গেছে।
গত ১৮ আগস্ট ৩০ হাজার কুকুর শহরের বাইরের লোকালয়ে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছে ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের। তিনি গণমাধ্যকে বলেন, ‘কুকুরগুলোকে স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী কুকুরগুলোকে মাতুয়াইল এলাকায় স্থানান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে কুকুরগুলো খাবারের সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সেটা বাতিল করা হয়েছে। কুকুরগুলোর যাতে খাবারের সংকট তৈরি না হয় সেজন্য ঢাকার বাইরের জনপদ অর্থাৎ যেখানে মানুষের বসবাস রয়েছে তেমন কোনো এলাকায় নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।’
ডিএসসিসির পক্ষ থেকে কুকুর স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, এমন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। তারা সেগুলোকে ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে র্যাবিসের ঝুঁকি কমিয়ে আনার চেষ্টা করবে। এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ মমিনুর রহমান মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হাইকোর্ট কুকুর হত্যা এবং স্থানান্তর নিষিদ্ধ করেছে। তাই আমরা অভয়ারণ্য নামের একটি এনজিও ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে মিলে কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিন দেব।’
জানতে চাইলে ‘দ্য অ্যানিমেল রেসকিউয়ার’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আফজাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তাদের এই সিদ্ধান্তের জন্য আমরা ক্ষুব্ধ। রাজধানী ছাড়া দেশের অন্যত্র কুকুরকে সেভাবে দেখভাল করা হয় না। আর এক স্থানের কুকুর অন্যত্র গেলে আরও সমস্যা বাড়বে। একদিকে যেমন তারা খাদ্যের অভাবে ভুগবে, অন্যদিকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে থাকতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, এখানে তারা একটা প্রকল্পে নিয়ে কুকুরগুলোকে রক্ষা করতে পারে। আমরা এ সিদ্ধান্তের পুনঃবিবেচনা চাই।’
এ প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক নীলা হাবিবা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরিকল্পনা না করে কুকুর ঢাকার বাইরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। রাজধানীতে অনেক সংগঠনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করে কুকুরসহ নানা পশু নিয়ে কাজ করে খাদ্য দেয়। কিন্তু অন্য জেলায় তা সম্ভব নয়। তারা কোথায় থাকবে, কী খাবে? এছাড়া নতুন পরিবেশে গেলে তারা নানা সমস্যায় ভুগবে বলেও তিনি জানান।’
