টানা বর্ষণ ও জোয়ারে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২০, ০১:১০ পিএম

টানা বর্ষণ ও নদ-নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল নিয়মিত প্লাবিত হচ্ছে। এতে নদী সংলগ্ন কয়েকশ মাছের ঘের ভেসে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নিচু এলাকার শত শত ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে পানি জমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। গত ছয় দিনে বাগেরহাটে এক হাজার ১৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বাগেরহাট শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভৈরব, মোংলার পশুর, মোরেলগঞ্জের পানগুছি এবং শরণখোলার বলেশ্বর নদ গত কয়েক দিন যেন ফুঁসে উঠেছে।

প্রতিদিন এসব নদে ৩ থেকে চার ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই নদ সংলগ্ন বাগেরহাট পৌরসভার কাঁচাবাজার, মাছ বাজার, ফলপট্টি, মেইন রোড, কাজী নজরুল ইসলাম রোড, রাহাতের মোড়, লঞ্চঘাট, প্রধান ডাকঘর সড়ক, সদর উপজেলার রাধাবল্লব, রহিমাবাদ, মোরেলগঞ্জের পানগুছি নদের তীরে অবস্থিত মোরেলগঞ্জ পৌরসভা, প্রধান বাজার, মোংলার পশুর নদের তীরবর্তী গ্রাম এবং শরণখোলার বলেশ্বর নদের তীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রাম জোয়ারের পানিতে নিয়মিত প্লাবিত হচ্ছে।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান বলেন, বাগেরহাটের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার ফুট পানি বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণে নদী তীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। তবে এই জোয়ারের পানির চাপে বেড়িবাঁধের কোনো ক্ষতি হয়নি।

বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান বলেন, শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়েছে। যার কারণে শহরের পানি নিষ্কাশনের গেটগুলো উপচে পানি প্রবেশ করছে। এই পানিতে শহরের বাজারসহ বেশ কয়েকটি সড়ক নিয়মিত প্লাবিত হচ্ছে।

এ ছাড়া গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণের পানি নদীতে জোয়ার থাকায় তা নামতে পারছে না। এই সমস্যার সমাধান করতে পানি নিষ্কাশনের গেটগুলোকে আরও উঁচু করার পরিকল্পনা রয়েছে। জোয়ারের পানির চাপ কমলে কাজ করা হবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ বলেন, উপকূলীয় বাগেরহাটের প্রধান প্রধান নদনদীতে পানির চাপ বেড়েছে। যার কারণে এসব নদ-নদী সংলগ্ন বিভিন্ন উপজেলার নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক রঘুনাথ কর বলেন, বর্তমানে আমন ধানের মৌসুম চলছে। বাগেরহাট জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ৭৪ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৪০ ভাগ জমিতে আমন ধান রোপণ শেষ হয়েছে। গত ছয় দিনে জেলায়  এক হাজার ১৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে আমনের বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে রয়েছে। এই পানি দু-এক দিনের মধ্যে নেমে না গেলে বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাগেরহাট মৎস্য বিভাগের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. খালেদ কনক বলেন, জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় বাগেরহাটের নদী তীরবর্তী মোংলা, রামপাল ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার বেশ কিছু মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার খবর পাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট এলাকায় কি পরিমাণ মাছের ঘের ভেসে গেছে এবং তাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কি তা নিরূপণ করতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার মো. ফকর উদ্দিন বলেন, মোংলা বন্দরে বর্তমানে সার, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামালসহ মোট নয়টি দেশি-বিদেশি জাহাজ রয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে জাহাজে পণ্য ওঠানামায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত