টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌর এলাকার বংশাই রোডের সেই ১০০ মিটার জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটুকু এখন ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষের গলার কাঁটা।
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ মির্জাপুরের উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষ তিন বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
সামান্য বৃষ্টিতেই জমে হাঁটু পানি। দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সড়কে সেচের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছেন।
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই সড়কটি দিয়ে উপজেলার উত্তরাঞ্চলের তরফপুর, লতিফপুর এবং ফতেপুরের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে। পার্শ্ববর্তী বাসাইল উপজেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সহজ মাধ্যম এই সড়কটি। একশ মিটার এই রাস্তার ২০ মিটার সড়ক ও জনপথের এবং বাকি ৮০ মিটার হচ্ছে মির্জাপুর পৌরসভার। ২০১৬ সালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করণের কাজ শুরু হয়।
মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় খোঁড়াখুঁড়ি। মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় চার লেন ও আন্ডার পাস নির্মাণের জন্য কাজ শুরুর পর থেকেই বংশাই রোডের ওই অংশে জনযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। রাস্তাটুকুর পশ্চিমপাশের জমির মালিকেরা মাটি ফেলে পুকুর ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করেন। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার ওই অংশে হাঁটু পানি জমে যায়।
এ অবস্থায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা পানি সেচের ব্যবস্থা করেন। মাঝে মধ্যে ইট-খোয়াও ফেলেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মসে দেশ রূপান্তরসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ছবিসহ প্রতিবেদন ছাপা হয়।
পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. একাব্বর হোসেনের হস্তক্ষেপে মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প থেকে ইট-খোয়া ফেলে কিছুটা চলাচলের উপযোগী করা হয়। তবে ভারী যানবাহন চলায় তা আবারও বড় বড় গর্তে পরিণত হয়। ফলে জনগণের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকে।
শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে সড়কটির ওই অংশে হাঁটু পানি জমে রয়েছে। রিকশা চালকেরা যাত্রী নিয়ে রিকশা টেনে টেনে রাস্তাটুকু পার হচ্ছেন। লোকজন হাঁটু পানি ভেঙে যাচ্ছেন। যাতায়াতের সুবিধার্থে স্থানীয়রা মেশিনের মাধ্যমে পানি সেচের ব্যবস্থা করেছেন।
ওই রোডের ওষুধ ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদ জানান, সড়কটি দিয়ে আশপাশের গ্রামগুলোর শিক্ষার্থীরা মির্জাপুর সদরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। রোগীরা যায় কুমুদিনী হাসপাতালে।
এছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা চলাচল করেন। পাহাড়ি অঞ্চল তরফপুর, লতিফপুরের কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে আসেন।
এজন্য মাঝে মধ্যে মেশিনের মাধ্যমে তিনিসহ স্থানীয়রা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করেন। কিন্তু বৃষ্টি এলে আবারও পানিতে রাস্তা নিমজ্জিত হয়। ফলে কোনো লাভ হয় না। সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়।
আরেক ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, বৃষ্টি মৌসুমে বাড়িতে গিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। শুধু মনে হয় বৃষ্টি এসে কখন দোকানের ভেতর পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়ে যাবে।
রিকশা চালক আজমত আলী বলেন, ‘রাস্তায় পানি জমার লিগা ভাঙা বোঝা যায় না। রিকশার যন্ত্রপাতি নষ্ট অয়। ঠিকমত খ্যাপ মারন যায় না।’
মুঠোফোনে চার লেন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা (মির্জাপুরের কুর্ণী থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পর্যন্ত) সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খুরশিদ আলম বলেন, ‘সড়কটুকু দিয়ে মানুষ সত্যিই দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করছেন। এর আগে সেখানে কিছু রাবিশ (ইট-খোয়া) ফেলা হয়েছিল। রাস্তাটুকুর অধিকাংশ আমাদের অধিগ্রহণকৃত জায়গার বাইরে। তারপরও জনস্বার্থে সেখানে প্রায় ১১০ ফুট রাস্তা উঁচু ও পাকাকরণসহ একটি ড্রেন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
