জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়েছেন বহুল আলোচিত-সমালোচিত ইয়াসিন আরাফাত অপু। ছোট ভিডিও বানানোর অ্যাপ ‘লাইকি’তে ‘অপু ভাই’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই তরুণ নিজের ইউটিউব চ্যানেলে নতুন ভিডিও আপলোড দিয়ে বলেছেন, নিজের ‘স্বপ্নগুলোকে’ এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
মাস্তি বাংলা এইচডি নামের চ্যানেল থেকে অপু পরপর দুদিন দুটি ভিডিও পোস্ট করলেন। দুটিতেই তার আচার-আচরণে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
৪৫ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে তিনি বলেছেন, ‘সবাই জানেন যে আমার লাইফে একটা অ্যাকসিডেন্ট হইছে। তো এই অ্যাকসিডেন্টের কারণে কয়েক দিন আমি কারাগারে ছিলাম। বন্দি একটা কারাগারে।’
‘বন্দি কারাগারে ছিলাম, সমস্যা নাই। এটা এমন কিছু না যে বন্দি কারাগারে ছিলাম বলে খারাপ হয়ে গেছি। আমার একটা কথা হলো কী, আমার যে স্বপ্নগুলা ছিল, এগুলো কিন্তু বন্দি ছিল না। আমি আপনাদের দোয়ায়, ভালোবাসায়; সবকিছুতে ফিরে এসেছি।’
অপু গ্রেপ্তার হওয়ার পর লাইকি কর্তৃপক্ষ তার অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করে। তাই এখন থেকে টিকটকে ভিডিও করবেন।
গত ২ আগস্ট রাজধানীর উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের আলাওল অ্যাভিনিউতে রাস্তা দখল করে অপু এবং তার কয়েকজন সহযোগী ভিডিও বানাচ্ছিলেন। সে সময় মেহেদী হাসান নামের এক ব্যক্তি বন্ধুদের নিয়ে গাড়িতে চড়ে ওই সড়কে প্রবেশ করেন। মেহেদী রাস্তা ছাড়তে হর্ন দেন। কেন হর্ন দেওয়া হলো-এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তা হাতাহাতি ও মারামারির পর্যায়ে গড়ায়।
৩ আগস্ট দুপুরে মেহেদী হাসানের বাবা এস এম মাহবুব আলম বাদী হয়ে মারামারি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনে উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় অপুসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৩০ জনকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ ওই মামলায় অপু ও সহযোগী নাজমুলকে গ্রেপ্তার করে। ৪ আগস্ট অপু ও নাজমুলকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তাদের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজ তালুকদার। তবে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তার রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে চলতি সপ্তাহে মুক্তি পান।
ছেলেবেলায় মা-বাবার থেকে দূরে থাকা নোয়াখালির ছেলে অপুর মাস্তি বাংলা ইউটিউব চ্যানেলটি ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি খোলা।
শুক্রবার আরেকটি ভিডিও পোস্ট করে বলেছেন, ‘আমার যদি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে আমাকে প্লিজ মাফ করবেন। ভুল হলে আমাকে কমেন্ট বক্সে জানাবেন। প্লিজ, গালাগাল করবেন না।’
‘প্লিজ, গালাগাল করবেন না। আপনি গালাগাল করলে অন্যজন সাহস পাবে, এরপর আরো অনেকে গালাগাল করবে। এভাবে সমস্যা হয়। তাই একটা কথা...আমাকে একটু মাফ করে, ভুল চোখে না দেখে, যদি বলেন তোমার ভুল হয়েছে, তুমি এ কাজ আর করবে না, তাহলে আমি এ কাজ আর করব না। তবে গালাগালটা করবেন না। একটা কথা হলো কী, মানুষের লাইফে দুর্ঘটনা আসবেই।’
অপু গ্রেপ্তার হওয়ার সময় দাবি করেছিলেন তার বাবা নেই। পরে জানা যায় তার বাবা আছে। কেন এমন বলেছিলেন দিয়েছেন সেই ব্যাখ্যা, ‘ইদানীং মানুষ আমাকে অনেক ভুল ভাবছে একটা কারণ নিয়ে। কারণটা হলো সবাই বলছে, আমি মিথ্যা কথা বলছি। সবাই বলছে, আমার বাবা আছে, কিন্তু আমি স্বীকার করেছি আমার বাবা নেই। আসলে একটা কথা হলো, আমার যখন দেড় বা দুই বছর বয়স ছিল, তখন আমার মায়ের কাছ থেকে বাবার ব্যাপারে শুনেছি। আমার মাকে যখন বললাম, আমার বাবা কোথায়? তখন মা বলল, তোমার বাবা নেই। তখন আমি বললাম, সে কি মারা গেছে? তখন সে (মা) বলল, না।’
‘একটা কথা হলো, আমার মা আমাকে ছোট থেকে বড় করেছে। আমি আমার বাবাকে চিনিও না, জানিও না, উনি কে। আমি ওই হিসেবে বলেছি যে আমার বাবা নেই।’
অপু বলেন, ‘আমি যদি বলি, আমার বাবা আছে, তাহলে দশজনে বলবে, তোমার বাবাকে সামনে আনো। তখন আমি কী উত্তরটা দেব? তার জন্যই আমি বলছি যে আমার কোনো বাবা নেই। ইদানীং আমি শুনছি, আমার বাবা সেজে কেউ একজন সবাইকে বলছেন, উনি আমাকে লালনপালন করেছেন, উনি নাকি আমার বাবা! এটা হলো একটা গুজব। এগুলোতে কেউ কিছু মনে করবে না। এটা সত্য নয়। আমার বাবা নেই। বাবাকে আমি আজ পর্যন্ত দেখিনি। কী বলব... সবাই তো বুঝতে পারছেন সমস্যাটা কোথায়। বাবা না থেকেই… ঠিক আছে বাবা আছেন, তিনি পাশে থাকেন না, কোনো খোঁজখবর রাখেন না।’
অপু আরো বলেন, ‘আমার এখন ২০ বছর বয়স। এই বিশ বছরে আমার বাবাকে একনজর দেখিনি। আমি যখন একটা সমস্যায় পড়েছি, তখন (কেউ একজন) বলছেন যে আমার বাবা আছে। হ্যাঁ, আমার বাবা আছে, (কিন্তু) আমার সামনে তো আসেননি। কই, আমি তো একটা জায়গায় ছিলাম, একটা বন্দিখানায় ছিলাম। আমাকে তো (তিনি) দেখেননি। আমাকে গিয়ে বলেননি, ধরো এক হাজার টাকা নাও। আমি তোমার বাবা, তুমি নিয়ে গিয়ে খরচ করো।’ কই, এমন তো বলেননি। তাহলে উনি কেমন বাবা আমার?’
অপু বলেন, ‘আর কী বলব, এটা আমার কপালের দোষ। আর কিশোর গ্যাঙের কথা বলছেন, এটা সত্য নয়। আমি ঢাকায় এসেছি নতুন, এটা সবাই জানে। তাহলে কি একটা মানুষের একটা তাড়াতাড়ি গ্যাং হবে, মারামারি করবে? ক্যামেরার ভেতরে যেমন আমার হাতকড়া লাগানো, বাইরেও একই হাতকড়া লাগানো। কারণ, আমাদের সবাই মোটামুটি চিনে। কেউ খারাপভাবে দেখে, কেউ ভালোভাবে দেখে। খারাপভাবে যারা দেখে, তাদের একটা কথা বলি, কোনো ভুল থাকলে আমাদের বলবেন। আমরা ওই কাজ আর জীবনেও করব না। আর যদি না বলেন, তাহলে আমরা শিক্ষা নিতে পারব না। আপনারা তো আমাদের শিক্ষা দেবেন। আমি আপনাদের ছেলের মতো, ভাইয়ের মতো।’
