যুক্তরাষ্ট্রের মদদে মালি ক্যু

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২০, ১১:৩৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মালির সৈন্যরাই দেশটিতে অভ্যুত্থান ঘাটিয়েছে বলে ফাঁস হওয়া বেশ কিছু রিপোর্ট সূত্রে জানা গেছে। মালির বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়ছেন কর্নেল আসসিমি গোইতা নামের এক সেনা কর্মকর্তা। সাহেল অঞ্চলে জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য গোইতাকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশিক্ষণ দিয়েছিল।

পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দূত জে পিটার ফাম বলেন, ‘এটা নিশ্চিত যে ক্যু’র সঙ্গে জড়িত কিছু সেনাসদস্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণ পেয়েছিল। গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের হাতে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। তবে এ ধরনের কাজের পেছনে মূলত ব্যক্তি জড়িত থাকে। মালির সেনাবাহিনীকে আর কোনো প্রশিক্ষণ সহায়তা দেওয়া হবে না। পুরো বিষয় সম্পর্কে স্বচ্ছ হওয়ার আগ পর্যন্ত সব সহযোগিতা বন্ধ থাকবে।’ মালিতে অবশ্য অভ্যুত্থান হওয়ার পরিস্থিতি বিগত কয়েক মাস ধরেই তৈরি হচ্ছিল। সরকারের দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় ঘন ঘন বিক্ষোভ ও সহিংসতা হচ্ছিল। এমন বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির সুযোগ সেনাবাহিনী নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মালিতে গত সপ্তাহের এই অভ্যুত্থানের ফলে পশ্চিম আফ্রিকায় ইসলামিক স্টেট ও আল কায়েদার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও বহুজাতিক সংস্থাগুলোর পরিচালিত অভিযান হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি সাহেল অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির নেতিবাচক দিকগুলোও সামনে চলে আসবে, যা অস্বস্তিকর অনেক সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করাবে আফ্রিকার নেতাদের। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, পশ্চিমা দেশগুলো আফ্রিকাতে জঙ্গিবাদবিরোধী লড়াইয়ের নামে দীর্ঘদিন ধরে যে স্বার্থসিদ্ধি করে আসছে, সেই কারণেই এমন ক্যু’র সৃষ্টি হয়েছে। আর এমন পরিস্থিতির সুবিধা জঙ্গি দলগুলো নেবে বলে মনে করেন তারা।

মালিতে ক্যু’র পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে কি-না তা নিয়ে এখনো কোনো পক্ষই মুখ খোলেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পকে জিততে হলে যে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রয়োজন তা পশ্চিম আফ্রিকার বাস্তবতাকে ব্যবহার করে পেতে চাইতে পারে রিপাবলিকান শিবির, এমন সম্ভাবনা এড়িয়ে দেওয়া যায় না। পশ্চিম আফ্রিকায় সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে দীর্ঘ বছর ধরেই মালিকে কেন্দ্র করে বহুজাতিক সংস্থাগুলোর ব্যাপক কাজ আছে। মালিতে ২০১২ সালের ক্যু’র পর দেশটির একটা বড় অংশের দখল নেয় জঙ্গিরা। ওই ঘটনার পরই মূলত পশ্চিমা দেশগুলো মালিতে প্রবেশের সুযোগ পায়। এবারের ক্যু যুক্তরাষ্ট্রকে ফের সেই সুযোগ করে দিতে পারে। এখানে উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া ও অতিসম্প্রতি জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। প্রত্যাহারকৃত সেনাদের নতুন করে আফ্রিকার দেশগুলোতে পাঠানো হতে পারে এমন ইঙ্গিত গত এক বছর ধরেই করে আসছিলেন বিশ্লেষকরা।

বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন যে, যেকোনো মুহূর্তে বিদেশি শক্তির সহায়তা দরকার হতে পারে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো বহজাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সাহেল অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে। সঙ্গে আছে জাতিসংঘ, জি-৫ সাহেল, ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস (ইসিওডব্লিউএএস)। ধারণা করা হচ্ছে, ইসিওডব্লিউএএস খুব জলদিই মালিতে যাবে অভ্যুত্থানকারী সেনা কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতে। যদিও এখন পর্যন্ত মালির সেনাশাসিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত