বিশ্ব ফুটবলের বড় ভক্ত বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। ইউরোপের ক্লাব ফুটবল দেখেন রাত জেগে। মিস করেননি রবিবার রাতের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালও। ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে মাশরাফীর ফেইসবুক পেজে একটা পোস্ট ভেসে ওঠে। ৫টি পয়েন্ট করে ম্যাচের পর নিজের অনুভূতি শেয়ার করেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা অধিনায়ক।
স্ট্যাটাসটি এ রকম
‘একটা ম্যাচ শেষে কতো ভালো এবং খারাপ লাগা কাজ করছে...
১
একজন আর্জেন্টিনার ফুটবল সমর্থক হিসাবে ডি মারিয়ার হার এতটুকুও খারাপ লাগেনি।
২
এমবাপ্পের গতির কাছে আর্জেন্টিনার শেষ বিশ্বকাপের বিদায় এখন চোখে ভাসে, তাই ওর জন্যও খারাপ লাগেনি এতটুকুও।
৩
লেভানডোস্কি বা মুলার কারও উৎযাপনও নিতে পারছি না।
৪
আবার ব্রাজিলের সমর্থক না হয়েও নেইমারের জন্য অস্থির লাগছে। মনে হচ্ছে ও পেলে খুব ভালো লাগতো।
৫
পরে বুঝতে পারলাম এটাই মূল কারণ যে জার্মানির কোনো জয় আমি নিতে পারি না। কারণ আর্জেন্টিনা ওদের কাছে ধরা।’
আর্জেন্টিনার পাঁড় ভক্ত মাশরাফী। পিএসজির পুরোভাগে ব্রাজিলের নেইমার, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে ও আর্জেন্টিনার অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। ডি মারিয়ার পারফরম্যান্স এই রাতে তার মতো ছিল না। ২১ বছরে বিশ্বসেরা হওয়া এমবাপে ২০১৮-এর বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে আর্জেন্টিনাকে বিদায় করে দিয়েছিলেন ৬৪ ও ৬৮ মিনিটে করা দুর্ধর্ষ জোড়া গোলে।
মাশরাফীর প্রথম দুই পয়েন্টের মানে পরিষ্কার। ৩ নম্বর পয়েন্টের পরিষ্কার অর্থ বুঝতে হলে ৫ নম্বরে চোখ রাখতে হবে। বায়ার্নের দুই সেরা তারকা রবার্ট লেভানডোস্কি ও টমাস মুলার। এমনিতে চোখধাঁধানো ফুটবলার দুজনই। এই আসরেও আগুনের মতো জ্বলেছেন। ফাইনালেও ছিলেন দারুণ। কিন্তু তারা যে দুজনই জার্মানির ক্লাবটির খেলোয়াড়!
বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যে চিরকালীন শত্রুতা। একে অন্যের অমঙ্গল চেয়ে বেড়ান অন্ধ ভক্তরা। অন্যের সাফল্যে দুঃখিত হন, পতনে হন সুখী। আর্জেন্টিনা ভক্ত হিসেবে তাই নয় বুঝি, ফুটবলবোদ্ধা হিসেবে নেইমারের জন্য কষ্ট মাশরাফীর। ফ্রান্সের ক্লাবটির প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ওঠার পেছনে নেইমারের কৃতিত্ব অনেক। এমনকি ফাইনালে কী চেষ্টাটাই না করেছেন। কিন্তু সেই পরিমাণ সমর্থন জোটেনি তার। না জুটেছে ভাগ্যের সহায়তা। দলগত খেলা ফুটবলে একা নেইমার আর কী করবেন!
কিন্তু নেইমার কিংবা পিএসজির জন্য মাশরাফীর স্ট্যাটাসে যে দুঃখবোধ আছে তার পেছনে অবশ্য ঘুরেফিরে আর্জেন্টিনা। ডিয়েগো ম্যারাডোনা বলতে অজ্ঞান মাশরাফী ছেলেবেলায় ওই কিংবদন্তির কান্না দেখেছেন ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালে। জার্মানি সেই কান্নার কারণ। ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপের কথাই ধরুন না। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে কোচ ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে ৪-০ গোল ধসিয়ে দিয়েছিল জার্মানি। ২০১৪ সালে তো লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার হৃদয় আরও খানখান করে দিয়েছিল ওই জার্মানরাই। সেবার ব্রাজিল বিশ্বকাপের ফাইনালে ১-০তে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জার্মানি। হৃদয়ে আর্জেন্টিনা নিয়ে তাই মাশরাফী বায়ার্ন মিউনিখের ফের ইউরোপ সেরা হওয়ার উৎসবে কীভাবে যোগ দিতে পারেন বলুন!
