কুমিল্লায় নকল প্রসাধন তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে এর মালিককে জেল-জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার সকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে কারখানাটি সিলগালা এবং এর মালিক আবু সুফিয়ানকে ৬ মাসের জেল ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
কারখানার মালিক আবু সুফিয়ানের বাড়ি চান্দিনার নবাবপুর এলাকায়। মোগলটুলি এলাকায় তিন কক্ষের ভাড়া বাসায় এসব পণ্য তৈরি করতেন তিনি। আবু সুফিয়ান জানান, ঢাকা থেকে কেমিক্যাল ও অন্যান্য অনুষঙ্গ এনে তিনি এসব প্রসাধনী তৈরি করতেন।
কুমিল্লা ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আছাদুল ইসলাম বলেন, গোপন তথ্যে জানতে পারি মোগলটুলি হাইস্কুলের পেছনের সরদার বাড়িতে নকল পণ্যের কারখানা রয়েছে। এখানে বিষাক্ত কেমিক্যাল ও ময়দার মিশ্রণে চলছিল বিভিন্ন ধরনের প্রসাধন তৈরি। এসব প্রসাধনী স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
ঘণ্টাব্যাপী অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ বলেন, কারখানার মালিকের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রসাধন তৈরি করতেন। দেশি-বিদেশি প্রসিদ্ধ প্রসাধনীর আদলে নকল প্রসাধনী তৈরি করতেন। দুই বছরের বেশি সময় ধরে কুমিল্লার মোগলটুলি এলাকার উত্তর গায়চরের সরদার বাড়ি থেকে বাজারজাত করা হচ্ছিল এসব প্রসাধনী।
অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের থলপাড়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনকে এক বছরের কারাদ-, তিন লাখ টাকা জরিমানা ও তার নকল কেমিক্যাল কারখানা সিলগালা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে মির্জাপুর উপজেলা সদরের বংশাই রোডের ত্রিমোহন স্যালুঘাট এলাকায় অভিযান চালায় টাঙ্গাইল র্যাব-১২।
তোফাজ্জল হোসেন হারপিক, ভিকসল ও গ্লাস ক্লিনার মি. ব্রাসুসহ ৭-৮ ধরনের নকল কেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছিলেন।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, থলপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন শাহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানি নাম দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির নাম ব্যবহার করে কেমিক্যাল পণ্য নকল করে বাজারজাত করে আসছিলেন। এর আগেও তোফাজ্জল হোসেনকে আটক ও তার কারখানা সিলগালা করা হয়।
