বেশি সওয়াব লাভের জন্য কষ্ট করা

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২০, ১২:৩৭ এএম

প্রশ্ন : ইবাদতের ক্ষেত্রে বেশি সওয়াব পাওয়ার জন্য কষ্টকর অবস্থাকে বেছে নেওয়া কি শরিয়তসম্মত? যেমন গরম পানি থাকা সত্ত্বেও ঠা-া পানি দিয়ে অজু করা কিংবা কাছেই মসজিদ থাকা সত্ত্বেও দূরের মসজিদে যাওয়া। কারণ আমি বিভিন্ন আলেমের কাছে শুনেছি যে, ইচ্ছাকৃতভাবে যে ব্যক্তি কষ্টটাকে খুঁজে বেড়ায় সে সওয়াব পাবে না।

উত্তর : কোনো ব্যক্তি যদি কষ্টকর অবস্থাকে তার লক্ষ্য বানায়, এতে করে তিনি কোনো সওয়াব পাবেন না। বরং তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি কষ্ট হয়, তাহলে তিনি সওয়াব পাবেন। কারণ কষ্ট পাওয়ার বিষয়টি শরিয়তে কাক্সিক্ষত নয়।

শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন তার ‘কাওয়ায়েদ’ গ্রন্থে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, শরিয়ত কষ্টকে কষ্ট হিসেবে ‘কাক্সিক্ষত লক্ষ্য’ বানায়নি। তাই কোনো আমল যদি কষ্ট ছাড়া পালন করা যায়, সে ক্ষেত্রে আমাদের কষ্টদায়ক বিষয় নির্বাচন করা অনুচিত। কেউ যদি ইচ্ছে করে কষ্ট বেছে নেয়, তাহলে সেটা শরিয়তসম্মত হবে না। এর উদাহরণ হচ্ছে কেউ একজন বলল যে আমি হেঁটে হজ আদায় করব; যাতে আমার হজ করতে কষ্ট হয় এবং সওয়াব বেশি হয়। তাকে বলা হবে কষ্টকে লক্ষ্য বানানো শরিয়তসম্মত নয়। কেননা শরিয়তপ্রণেতারা কষ্টকে মূল উদ্দেশ্য করেননি। তাই আপনি আপনার এ কর্মের মাধ্যমে শরিয়তপ্রণেতার উদ্দেশ্যের বিপরীত কাজ করছেন।

যদি কেউ বলে যে, হাদিসে এসেছে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কষ্ট অনুপাতে আপনি সওয়াব পাবেন’ তাকে বলা হবে এ হাদিসে যে কষ্টের কথা এসেছে সেটা ব্যক্তির স্বপ্রণোদিত কষ্ট নয়। বরং হাদিসের উদ্দেশ্য হচ্ছে, সেই কষ্ট যেটা ইবাদত পালনে ঘটে থাকে; ব্যক্তির স্বেচ্ছায় কিংবা উদ্দেশ্যপ্রসূত নয়।

অনুরূপ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো কেউ অপবিত্রতা থেকে গোসল করার সময় কোন ধরনের পানি ব্যবহার করা মুস্তাহাব বা পছন্দনীয়? ঠান্ডা নাকি গরম পানি?

এর জবাবে সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটির সদস্যরা বলেন, মুসলিম তার কল্যাণের দিক বিবেচনা করে ঠা-া কিংবা গরম পানি ব্যবহার করবে; এটি একটি সহজাত ও স্বাভাবিক বিষয়। আল্লাহতায়ালার দ্বীন সহজ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তিনি তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

শাইখ আবদুল আজিজ বিন বাজ, শাইখ আবদুর রাজ্জাক আফিফি, শাইখ আবদুল্লাহ গাদইয়ান, শাইখ আবদুল্লাহ বিন কুয়ুদ ফতোয়াটি সত্যায়ন করেছেন। (ফতোয়াসমগ্র, খ- : ৫, পৃষ্ঠা : ৩২৮)

প্রশ্নটি করেছেন : হাবিবুল্লাহ গাফফার, আটপাড়া, নেত্রকোনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত