হাসপাতালে অভিযানে বিরত থাকার চিঠির বৈধতা নিয়ে রুল

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২০, ০২:১৩ এএম

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। এই চিঠি কেন আইনগত কর্র্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের দুই সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইন সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাসজনিত মহামারী শুরু হওয়ার পর উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানে করোনাভাইরাসের চিকিৎসা ও পরীক্ষার নামে প্রতারণার চিত্র বেরিয়ে আসে। অন্যদিকে পুলিশি তদন্তে পরীক্ষা না করেই করোনাভাইরাসের ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ায় স্বাস্থ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান জেকেজি হেলথকেয়ারের কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া গুলশানের সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও অভিযান চালিয়ে করোনা চিকিৎসায় অনিয়মের প্রমাণ পায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করাতে হাসপাতালগুলোর স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে উল্লেখ করে গত ৪ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে হাসপাতালে অভিযান থেকে বিরত থাকতে এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে অভিযান পরিচালনা করতে বলা হয়। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এমন চিঠি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে গত ১৭ আগস্ট ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রফিকুল ইসলামের পক্ষে এ রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান। ভিডিও কনফারেন্সে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ইয়াদিয়া জামান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।

ইয়াদিয়া জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুনানিতে বলেছি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক এবং সংবিধান এটি সমর্থন করে না। আমাদের প্রচলিত যে আইন আছে সেগুলোর মধ্যে সিআরপিসির (ফৌজদারি আইন) ৪৪ ও ১৫৬ ধারা এবং মোবাইল কোর্ট অ্যাক্ট’র ১২ ধারা এ ধরনের সিদ্ধান্তকে একেবারেই বিরোধিতা করে। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে বলেছেন, হাসপাতালগুলোতে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়েই তো  অনিয়মগুলো বের হয়ে আসছে। এখন অভিযান বন্ধ হয়ে গেলে তো এ অনিয়মগুলো জানা যাবে না। হাইকোর্ট আমাদের বক্তব্য গ্রহণ করে রুল দিয়েছে।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত সাংবাদিকদের জানান, আদালত রুল জারি করলেও চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত করেনি। ফলে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেটি বহাল থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত