কালকিনিতে বন্যা ও নদী ভাঙনে বিলীনের পথে প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২০, ০৪:১৩ পিএম

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলিনগর ইউনিয়নের ১৫১নং চর হোগলপাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাইক্লোন সেন্টার নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় আড়িয়াল খা নদী গর্ভে চলে যেতে পারে। এতে এলাকার দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

এছাড়াও বন্যায় নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনে অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি দোকানপাট বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার জিও ব্যাগের প্রকল্প।

জানা গেছে, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া, সাহেবরামপুর, সিডিখান, বাশগাড়ী, আলীনগর ও পৌর এলাকার লক্ষীপুর পখিরাসহ প্রায় ১৫টি গ্রামের অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি আড়িয়াল খা ও পালরদী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এ নদীর তাণ্ডবে ভিটামাটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ। এ ছাড়াও নদী গর্ভে বিলীন হতে চলেছে শতাধিক বাড়িঘর ও ঐতিহ্যবাহী ১৫১নং চর হোগলপাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়টি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও সরকারিভাবে অনুমোদন পায় ২০১৩ সালে। তবে এর আগে ১৯৯৮ সালে ও ২০০৩ সালে এই বিদ্যালয়টিকে নদী গিলে খেলে ২০০৪ সালে পুনর্নির্মাণ হয়। বিদ্যালয়টিতে ১৫০ ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ৮৩ জনই ছাত্রী। এই এলাকা থেকে অন্য বিদ্যালয় দূরে হওয়ায় পড়াশোনার জন্য মেয়েরা এই বিদ্যালয়টি বেছে নিয়েছে। কিন্তু সেই বিদ্যালয়টি এখন নদী গর্ভে চলে যেতে পারে যেকোনো সময়।

বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে গেলে ওই এলাকায় বড় ধরনের ভাঙন হতে পারে। এতে করে ভয় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদীর পাড়ের হাজারো মানুষ।

স্থানীয় কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম জানান, চর হোগলবাতিয়া ১৫১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকির মাঝে আছে যে কোনো সময় এটা বিলীন হয়ে যাবে।

১৫১নং চর হোগলবাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. মনোয়ারা বেগম বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে দেড় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে।  প্রতি বছর নদী ভাঙনের ভয়ে থাকি দুর্ভোগেও পোহাতে হয়। একটি স্থায়ী সমাধান হলে ভালো হয়’ নদী পাশে স্কুল না রেখে যদি একটু ভেতরে স্কুলটি পুনর্নির্মাণ করা হয় তাহলে প্রতি বছর আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় না।

তা ছাড়া বর্ষা এলেই আমাদের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা পড়তে হতো না।

তা ছাড়া এই স্কুলটি যদি এবার ভেঙে না ও যায় তাহলেও এই স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস করানো সম্ভব হবে না। স্কুলের নিচ দিয়ে মাটি সরে ভেঙে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, যেহেতু বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিদ্যালয়টি নিলামে দিয়ে কিছু টাকা হলেও সরকারি কোষাগারে আসুক। নদীতে বিলীন হলে তো কিছুই থাকবে না।

তা ছাড়া স্কুলটি ঝুঁকিতে থাকায় একটুতো পড়াশোনায় সমস্যা হতে পারে তবে আমরা চেষ্টা করবো অস্থায়ী ভিত্তিতে ঘর নির্মাণ করে পড়াশোনা করানো যায় সেই ব্যবস্থা করা। আর এখনতো করোনার কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

মাদারীপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা জানান, ১৫টি গ্রামের অসহায় মানুষের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাট-বাজার ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার জিও ব্যাক ফেলে নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের উদ্বোধন শনিবার দুপুরে মাদারীপুর-৩ আসনের এমপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক ডক্টর আব্দুস সোবাহান স্যার করেছেন। কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত