বিকল্প জ্বালানির উৎস সন্ধানে বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঝেমধ্যে কিছু সম্ভাবনা দেখা দিলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হওয়ায় বিকল্প জ্বালানির বিষয়টি অতটা এগোয়নি। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এক গবেষণায় দাবি করেছেন, সামুদ্রিক শৈবাল হতে পারে আগামী খাদ্য ও জ্বালানি জোগানের অন্যতম উৎস। ইউরোপে ইতিমধ্যেই শৈবালকে রূপান্তরিত করার কাজ শুরু হয়েছে। এশিয়ার দেশগুলোতেও বিস্তর গবেষণা হচ্ছে, শৈবালকে শুকিয়ে কীভাবে ব্যবহার করা যায়।
সামুদ্রিক শৈবাল নিয়ে কাজ করেন গ্রেগারসন নামে এক ব্যক্তি। তার প্রতিষ্ঠানের নাম ওশান রেইনফরেস্ট। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘শৈবাল বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে হয়। সামুদ্রিক বায়োমাস দিয়ে খাবার তৈরি করা সম্ভব। এ ছাড়া জীবাশ্মভিত্তিক পণ্য যেমন প্যাকেজিং খাতেও শৈবালের ব্যবহার করা সম্ভব।’ শৈবাল হলো সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল শেওলা। সূর্যরশ্মি থেকে জ্বালানি, সমুদ্রের পানি থেকে পুষ্টি ও কার্বন ডাইঅক্সাইড নিয়ে বেঁচে থাকে শৈবাল। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, শৈবাল জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্বন শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ওশান রেইনফরেস্ট সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তর থেকে অর্থ সহায়তা পেয়েছে ক্যালিফোর্নিয়াতে একটি প্ল্যান্ট বসানোর জন্য। ওই প্ল্যান্টে শৈবাল উৎপাদন ও ভবিষ্যতের জন্য বায়োফুয়েল তৈরির কাজ চলবে। চলতি বছরে ওশান রেইনফরেস্ট ২০০ টন শৈবাল নিয়ে কাজ করবে। বছরে আরও বেশি পরিমাণে শৈবাল প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রযুক্তিগত ত্রুটি দূর করার চেষ্টা চলছে। শৈবালকে খুব দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করতে হবে কাক্সিক্ষত ফলের জন্য। এখন শৈবাল থেকে খুব বেশি কিছু তৈরি করা যাচ্ছে না প্রযুক্তিগত দুর্বলতার জন্য। কারণ, এখনো শৈবাল শুকানোর কোনো কার্যকরী পদ্ধতির আবিষ্কার হয়নি। রোদে শুকালে শৈবালের গুণমান অনেক কমে যায়। আবার যন্ত্রনির্ভর উপায়ে শৈবালের দেহ থেকে জলীয় অংশ আলাদা করতে যে পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হয় তা অনেক বেশি ব্যয়বহুল। বর্তমানে উৎপাদিত শৈবাল পণ্যের অধিকাংশই বিভিন্ন প্রাণীর খাবার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
কৃত্রিম পন্থায় উৎপাদিত শৈবাল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, টুথপেস্ট, কসমেটিকস ও প্রাণী খাদ্য তৈরি করা সম্ভব। এ ছাড়া বিভিন্ন মানের কাপড় (প্লাস্টিকের বিকল্প), ক্যাপসুলের খোলস ও পাইপও তৈরি করা সম্ভব। ইউরোপে শ্রমমূল্য অনেক বেশি হওয়ায় এই শিল্প এশিয়া ও আফ্রিকায় গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, এই দুই অঞ্চলে শ্রমমূল্য ইউরোপের তুলনায় অনেক কম।
