দ্বার খুলছে দক্ষিণ আফ্রিকা, অপেক্ষা পর্যটকের

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২০, ১০:১১ পিএম

করোনার কারণে মরুভূমির বুকে তিন মাস পর্যটকশূন্য মিসরের পিরামিড, দক্ষিণ আফ্রিকার সাফারি পার্কগুলো। টিবি, এইচআইভি, ইবোলার মতো সংক্রমণের পুরোনো অভিজ্ঞতা থেকে করোনা মহামারির আতঙ্ক ছড়াতেই তড়িঘড়ি সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিল আফ্রিকার বহু দেশ।

তবে এবার দক্ষিণ আফ্রিকাও পর্যটকদের জন্য দ্বার খুলছে। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিজম কাউন্সিলের ‘নিরাপদ ভ্রমণের’ শংসাপত্রও পেয়েছে কেপ টাউন।

করোনায় আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্যটন ও তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ব্যবসাগুলি। আফ্রিকায় অন্তত আড়াই কোটি মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা সংক্রমণ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার শুরুতেই আফ্রিকা দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়। দ্রুত পদক্ষেপ করার জন্যই হয়তো তাড়াতাড়ি সুস্থ হচ্ছে এই মহাদেশ। গত এক মাসে দৈনিক সংক্রমণ ক্রমশই কমছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আফ্রিকা হয়তো সংক্রমণের শীর্ষ পেরিয়ে এসেছে। সংস্থার আফ্রিকা বিষয়ক প্রধান মাতশিদিসো মোয়েতি জানিয়েছেন, সংক্রমণের রেখাচিত্র এখন নামছে। চার সপ্তাহে ১৭% কমেছে সংক্রমণ হার। তবে সংস্থাটি একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কড়াকড়ি পুরোপুরি তোলা যাবে না। কারণ রি-ইনফেকশন বা পুনরায় সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সংক্রমণ তালিকার প্রথম দশে রয়েছে একমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকা। ৬ লাখ ২০ হাজার আক্রান্ত। মৃতের সংখ্যার হিসেবে প্রথম দশে কেউ নেই। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৩ তে। এ পর্যন্ত ১৩,৭৪৩ জন মারা গিয়েছেন। সংক্রমণে ৩১তম স্থানে রয়েছে মিশর। ৪৭-এ রয়েছে মরক্কো, নাইজেরিয়া ৫০-এ।

আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) অবশ্য জানিয়েছে, পূর্ব ও উত্তর আফ্রিকায় সংক্রমণের ঘটনা কিছুটা হলেও বাড়ছে। উগান্ডা ও রুয়ান্ডায় সংক্রমণ বেড়েছে। উত্তর আফ্রিকার মরক্কো ও তিউনিসিয়ায় করোনা-আক্রান্ত হওয়ার খবর বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, লিবিয়াতেও সংক্রমণ বেড়েছে। অন্যদিকে কেনিয়া ও সোমালিয়ায় কমছে। মিশর, আলজেরিয়া, ঘানা, গ্যাবন, মাদাগাস্কার, জাম্বিয়াতেও করোনা কমেছে অনেকটাই।

তবে ‘ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি’র মতে, আফ্রিকায় করোনা-পরীক্ষা কম হচ্ছে। তাই কম ধরা পড়ছে। আফ্রিকার বেশ কিছু অঞ্চলে কোনও করোনা পজিটিভ ধরা পড়লে, তবেই কড়াকড়ি হচ্ছে। আবার ইথিওপিয়ার মতো ব্যতিক্রমও আছে। করোনা-পরীক্ষার ওপরে জোর দেওয়া হচ্ছে এ দেশে।

এ দিকে, জাতিসংঘ জানিয়েছে করোনার ভয়ে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে বিশ্বের মোট স্কুলপড়ুয়াদের এক-তৃতীয়াংশ প্রযুক্তির সাহায্যে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে না। বিশেষত, সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাংশে, আফ্রিকার দেশগুলিতে প্রযুক্তির নাগাল না-পাওয়ায় অনলাইন ক্লাসের সুযোগ নেই কমপক্ষে ৫০ শতাংশ স্কুলপড়ুয়ার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত