কাজের গুণগতমান ঠিক রেখে নভেম্বরের মধ্যে স্ট্যান্ড রোডের নির্মাণকাজ শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই স্ট্যান্ড রোডটি অবহেলিত ও জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে আছে। রাস্তাটির এখন বেহাল দশার পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ সড়ক বাতি এবং অপরিচ্ছন্নতা দূরীকরণে চসিকের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে তিল পরিমাণ গাফিলতি করা যাবে না।
বুধবার বিকেলে চসিকের প্রকৌশল বিভাগ ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত টিম নিয়ে নগর সেবায় ক্যারাভান কর্মসূচি পরিদর্শন ও তদারকিকালে এসব বলেন তিনি। এর আগে টাইগারপাস এলাকার অস্থায়ী নগরভবন থেকে নিজেই স্কুটি চালিয়ে নগরীর ফিরিঙ্গিবাজার থেকে স্ট্যান্ড রোডের এই ক্যারাভান কর্মসূচিতে যোগ দেন প্রশাসক।
এ সময় শত শত উৎসুক জনতা চসিক প্রশাসককে অভ্যর্থনা জানিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
পরে প্রশাসক দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে স্ট্যান্ড রোডের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন এবং ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন। জাইকার অর্থায়নে ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্ট্যান্ড রোডের নির্মাণকাজ করা হবে।
চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, কর্ণফুলীর নদী তীরবর্তী সদরঘাট থেকে বারেক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত স্ট্যান্ড রোডটি প্রাচীনতম। অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন টার্মিনাল, পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত পদ্মার প্রধান কার্যালয়, লবণ গুদাম, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ অসংখ্য বেসরকারি পণ্য পরিবহনের অফিস থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য ভারী যানবাহন এ সড়ক দিয়ে বন্দর ও সারা দেশে চলাচল করে। এ ছাড়া সাধারণ গণপরিবহন ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ছোট-মাঝারি-বড় আকারের গাড়ির নিত্য চলাচল এই সড়ক দিয়েই। মাত্রাতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের চাপ ধারণের ক্ষমতা না থাকায় সড়কটি প্রতিদিনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যত্রতত্র খানা-খন্দ গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে এবং এতে পানি জমছে, এ ছাড়া আছে এখানে-সেখানে আবর্জনার ভাগাড়।
চসিক প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর যে সব সড়ক ও মহাসড়ক সরাসরি বন্দরের আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে যুক্ত সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বন্দর কর্তৃপক্ষের অংশীদারত্ব ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। নগরীর সড়ক যোগাযোগ কাঠামোর বন্দরের সঙ্গে যুক্ত সড়কগুলোতে পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এগুলোর বেহাল অবস্থা ফুটে ওঠে। ফলে এ সময় রাস্তাগুলো যানবাহন চলাচল তো বটেই, সাধারণ মানুষের চলাফেরাও দুরূহ হয়ে পড়ে।
এ সময় প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান চৌধুরী, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি স্বপন কুমার মজুমদার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর প্রার্থী পুলক খাস্তগীর, সাবেক কাউন্সিলর নীলু নাগ, চসিক প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরহাদুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
