বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ আধিপত্যবাদীদের পুতুল সরকার হিসেবে শুধুমাত্র তাদেরই এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। তাদের সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা আমাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য’।
তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী (খালেদা জিয়া) একজন ক্যারিশমাটিক লিডার। তিনি তো ছিলেন হ্যামিলনের বংশীবাদক। লন্ডন থেকে আসলেন, রোহিঙ্গারা এসে গেছে তখন। আমরা তাকে বললাম, আপনার একবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিজিট করা দরকার। তিনি রাজি হলেন। আমরা কক্সবাজারে গেলাম। পথে পথে লাখ লাখ মানুষ যাওয়ার সময় এবং ফেরার সময়ও। আমাদের নেত্রীকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছে যে মানুষের তার সঙ্গে আছে, এখনো আছে। আমার বিশ্বাস এই মানুষগুলোকে সংগঠিত করে আমরা যদি রাজপথে নামতে পারি, আমরা যদি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে এই গণতন্ত্র বিরোধীদের সরাতে পারব’।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে বুধবার এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা শুরু হলো। আমাদের দেশে ২/৩টা প্রখ্যাত পত্রিকা তারা একই সুরে কথা বলতে শুরু করল। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা লক্ষ্য করলাম যে, বেশ কয়েকটি দেশের ডিমপ্লোম্যাটরা টুইজডে ক্লাব বলে একটি ক্লাব তৈরি করল। সেই ক্লাবে আবার একটা আন্দোলন শুরু হলো মিলিতভাবে যে যোগ্য প্রার্থীর.. । সবই একই সূত্রে গাঁথা ছিল যে, বিএনপি যেহেতু বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে, স্বাধীন, সার্বভৌম, স্বতন্ত্র অবস্থানে আছে।এই সরকার যদি থাকে এদের প্রতিনিধিরা যদি সংসদে আসে তাহলে তাদের যে লক্ষ্য সেই লক্ষ্য এখানে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হবে না’।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারই ফলশ্রুতিতে আমরা দেখেছি, তারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিভিন্ন নাটক তৈরি করেছে, বিভিন্নভাবে আমাদের এখানে ওয়ান-ইলেভেনের সেনা সমর্থিত সরকার তৈরি হয়েছে, তারপর দেখি, দুই বছর সম্পূর্ণ অসাংবিধানিকভাবে সরকার নিয়ে গেছে এবং তারপরে একটা নির্বাচন অনুষ্ঠিত করেছে যে নির্বাচনটা ছিল ষড়যন্ত্রমূলক। কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একবারের জন্যও মাথা নোয়াননি’।
লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।
সভাপতিত্ব করেন মির্জা ফখরুল এবং পরিচালনা করেন প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।
