‘জীবন রক্ষাকারী বিধির’ বিরুদ্ধে কেন মানুষ

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:০৫ এএম

গাড়িতে বসে সিট বেল্ট বাঁধলে অথবা মুখে মাস্ক পরলে ভাইরাস থেকে বাঁচা যায়। তবু কেন কিছু মানুষ এই বিষয়গুলো মানতে নারাজ এবং জীবন রক্ষাকারী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে? এমন প্রশ্নের উত্তর নিয়েই সম্প্রতি বিবিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে এসব আইনের বিরুদ্ধে মানুষের অবস্থান নেওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিভিন্ন বিক্ষোভকারীর সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, তারা শুধু আরামের দিক বিবেচনা করেই বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এমন নয়। সরকারগুলো বছরের পর বছর যে আইনগুলো করে যায় মানুষের জননিরাপত্তার নামে এবং সেই আইনগুলোই আবার গণমানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার হয়, এমন বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত বিক্ষোভকারীরা। একই অবস্থা ব্রিটিশ ড্রাইভারদের ক্ষেত্রেও। ব্রিটিশ ড্রাইভারদের অধিকাংশই গাড়ি চালানোর সময় সিটবেল্ট পরতে চান না। ১৯৮৩ সালে চালকের আসনে এবং ১৯৯১ সালে যাত্রীর আসনে বেল্ট পরিধান আইন করে বাধ্য করা হয় যুক্তরাজ্যে।

‘জীবন রক্ষাকারী আইন’-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো মাস্ক ও সিটবেল্ট। মুখে মাস্ক থাকলে কীভাবে মানুষ ভাইরাস থেকে বাঁচতে পারে, তা মিডিয়ায় বারবার দেখানোর পরেই বিক্ষোভ হয়েছে এবং হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯ শতাংশ মানুষ ভাইরাস থেকে বাঁচতে মাস্ক পরেন। তবে জার্মানি ও ফ্রান্সে মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা তুলনামূলক কম। সাওপাওলোর ১২ হাজার মানুষের ওপর করা এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ৩০ শতাংশ মানুষই ঠিক করে মাস্ক পরেন না, হয়তো তাদের নাক অথবা মুখ বের হয়ে থাকে। ইউরোপের দেশগুলোতে সিটবেল্ট বাঁধার পরেও দুর্ঘটনায় আরোহীর ক্ষতি হলে বীমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকে। মাস্কের বেলায় প্রশ্ন উঠেছে যে, মাস্ক পরার পরেও ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সরকার বা বীমা কোম্পানিগুলো ক্ষতিপূরণ দেবে কি না। মাস্কের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও, তাদের উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তর কিন্তু কর্র্তৃপক্ষ দিতে পারছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত