ঘাট স্থানান্তরের প্রতিবাদে বুড়িগঙ্গায় নৌকাবন্ধন

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:০২ এএম

ঘাট স্থানান্তরের প্রতিবাদে গতকাল শনিবার বুড়িগঙ্গায় নৌকাবন্ধন করেছেন মাঝিরা। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক তিনটি ঘাট বন্ধ করে দেওয়ায় ঢাকার কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গায় বিক্ষোভ করেন ঘাটগুলোর পাঁচ শতাধিক মাঝি। এ সময় তারা ওয়াটার বাস ও ট্রলার চলাচলেও বাধার সৃষ্টি করেন।

জানা যায়, নৌ-দুর্ঘটনা কমানোর লক্ষ্যে বুড়িগঙ্গা নদীর তেলঘাট, সিমসন ঘাট ও ওয়াইজঘাটে নৌকা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। এর বিকল্প হিসেবে কেরানীগঞ্জের নাগরমহল ঘাট থেকে বাদামতলী ডাবচর ঘাটে ওয়াটার বাস ও নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা করেছে তারা। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন ঘাটগুলোর মাঝিরা।

গতকাল ঘাটগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ শতাধিক মাঝি রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন। পুনরায় ঘাট বসানোর দাবিতে তারা বিক্ষোভ করছেন। নৌকা বন্ধ হওয়ার প্রতিবাদে তারা ওয়াটার বাস ও ট্রলার চলাচলে বাধা দেন। এ সময় তারা এসব ঘাট খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিআইডব্লিউটিএর এ ধরনের কর্মকা-ের বিরোধিতা করে বিভিন্ন সেøাগান দিতে থাকেন। বন্ধ করে দেওয়া ওই সব খেয়াঘাট খুলে না দেওয়া পর্যন্ত এসব ঘাটের সব নৌকা বন্ধ রেখে টানা কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা।

এদিকে, মাঝিদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর ব্যবসায়ীরাও তাদের দোকানপাট বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন। এখান থেকে ঘাট স্থানান্তর করা হলে মাঝিদের পাশাপাশি তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

নৌকা মাঝি শ্রমিক লীগ সভাপতি জাভেদ হোসেন মিঠু বলেন, মার্কেটের লোকজন মাঝিদের তাদের স্বার্থে ব্যবহার করছেন।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর সভাপতি স্বাধীন শেখ বলেন, ঘাটগুলো বন্ধ হয়ে গেলে মাঝিদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও অনেক ক্ষতি হবে।

বিআইডব্লিউটিএ ঢাকা বন্দরের যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, নৌ-দুর্ঘটনা কমানোর চেষ্টা হিসেবে ঘাট স্থানান্তর করেছি মাত্র কয়েক গজ দূরে। কারও ব্যবসায়িক স্বার্থে বারবার মানুষের জীবনহানি মেনে নেওয়া যায় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত