কোটি টাকার চাল আত্মসাতের অভিযোগ

কুতুবদিয়া খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৪১ এএম

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় ৮৫ লাখ টাকার সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ পাল চৌধুরীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুদকের সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-২ (কক্সবাজার)-এর সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন। এরই মধ্যে মামলার প্রধান আসামি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ পাল চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়েছেন।

দুদকের করা মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুতুবদিয়া উপজেলা খাদ্যগুদামের খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. শাহজাহান ওরফে মিন্টু, নিরাপত্তাকর্মী নিজামউদ্দিন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের স্প্রেম্যান মো. শাহজাহান (বর্তমানে কুতুবদিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরে নিযুক্ত), মেসার্স হিমায়ন সি-ফুডসের মালিক ও কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার শিকদার মহল এলাকার জানে আলমের স্ত্রী দিলরুবা হাসান এবং মেসার্স মোহনা এন্টারপ্রাইজের মালিক ও শহরের ঝাউতলা গাড়িরমাঠ এলাকার মাস্টার শফিকুর রহমানের ছেলে পরিবহন ঠিকাদার মো. সেলিম রেজা। মামলার এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৯০ দশমিক ৪৪২ মেট্রিক টন সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-২-এর সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ মামলার বিষয়ে বলেন, ‘আসামিরা ৮৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৭ টাকার সরকারি চাল আত্মসাৎ করেছেন। কুতুবদিয়া উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব চাল গায়েব করা হয়েছে। যা দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তকালে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানা যায়, কক্সবাজার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) আফিফ আল মাহমুদ ভূঁইয়া গত ২৯ জুলাই কুতুবদিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠায় কুতুবদিয়া থানা পুলিশ। ওই অভিযোগে বলা হয়, গত ২১ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ দিনে পরিবহন ঠিকাদার দিলরুবা হাসান ও সেলিম রেজার মাধ্যমে কক্সবাজার সদর এলএসডি থেকে ৩০২ দশমিক ৬৭৯ মেট্রিক টন চাল বড়ঘোপ খাদ্যগুদামে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ১৯০ দশমিক ৪৪২ মেট্রিক টন সরকারি চাল গায়েব করে দেন আসামিরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত