দেশে ক্রিকেট ব্যাট হাতে ছক্কা মারার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আয়ারল্যান্ডে হুরলিং (এক প্রকার মিশ্র খেলা) মাতাচ্ছে বাংলাদেশের সুলতান মাহমুদ সাব্বির নামের এক বালক। ইতিমধ্যে সে ‘ম্যাচসেরা’ পারফরম্যান্সে ক্যারিক ডেভিন্স অনূর্ধ্ব-১২ দলকে সাউথ টাইটেল জিতেয়েছে।
হুরলিং আয়ারল্যান্ডের এমন এক ধরনের খেলা, যা দেখে মনে হবে ফুটবল, রাগবি আর হকির একটি মিশ্রণ। প্রায় চার হাজার বছর ধরে আয়ারল্যান্ডের এই খেলা চলে আসছে।
লম্বা একটি লাঠি দিয়ে এটি খেলা হয়। গোলপোস্ট আছে। ছোট একটি বল আঘাত করে, লাথি মেরে অথবা হাত দিয়ে খেলা হয়।
ভালোভাবে আঘাত করতে পারলে এই বলের গতি হতে পারে ঘণ্টায় প্রায় দেড়শ কিলোমিটার।
আয়ারল্যান্ডের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিপ্পেরিলাইভে সাব্বিরের প্রশংসা করা হয়েছে। প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে ক্লোনমেল স্পোর্টসফিল্ডে সম্প্রতি টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। কিলশিলানের বিপক্ষে এক গোল করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয় সাব্বির।
ডেভিন্স ক্লাবের কোচ উইলি ডোয়ার সাব্বিরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন,‘সাব্বির গত বছর ছয় মাস হুরলিং খেলা ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু এই গ্রীষ্মে আবার ক্লাবে যোগ দেয়।’
‘ও অনেক উন্নতি করেছে। আমাদের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। ফাইনালে গোল করে শিরোপা এনে দিয়েছে। যতগুলো ম্যাচ খেলেছে প্রতিটিতে গোল পেয়েছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাব্বির বাংলাদেশে থাকার সময় ক্রিকেট খেলত। সেই অভিজ্ঞতা তার হুরলিং দক্ষতা বাড়িয়েছে।
সাব্বিরকে নিজের দেখা সেরা ক্যাচিং দক্ষতার খেলোয়াড় আখ্যা দিয়ে কোচ উইলি বলেন, ‘জীবনে যত ক্যাচার দেখেছি তার মধ্যে সাব্বিরই সেরা। এই বয়সে অনেক বাচ্চারই এমন ক্ষমতা থাকে না।’
ক্রেইক-অন-সির সিবিএস গ্রিনস্কুলের শিক্ষার্থী সাব্বির মা-বাবার সঙ্গে শরণার্থীদের আবাসিক এলাকা ব্রিজওয়াটার হাউজে থাকে। ডেভিন্স ক্লাব তার মতো অনেক শরণার্থী কিশোরকে শীর্ষ পর্যায়ে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে।
ব্রিজওয়াটারের লিয়াজোঁ অফিসার মার্টিনা ওয়ালশ সাব্বিরের এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘সাব্বিরকে সেরা খেলোয়াড় হতে দেখাটা অনেক আনন্দের। ও আমাদের এখানে মা মীর সৌদি শহীদ এবং বাবা মাহবুবের সঙ্গে থাকে। ওরা দুই বছর ধরে এখানে আছে।’
