নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একই কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে উৎকোচ গ্রহণসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠেছে। আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির বিবরণ তুলে ধরে নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন নেত্রকোনা জেলা পরিষদের এক সদস্য।
অভিযোগকারী মো. ইদ্রিছ আলী তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম উপবৃত্তির আনুষঙ্গিক বাবদ ২ হাজার ৫০০ এবং বই পরিবহনে ৪০০ টাকা সরকারি বরাদ্দ থেকে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা প্রত্যেক প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে কেটে রাখেন। এ বাবদ তিনি গত অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া অর্থসংক্রান্ত আরও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাই ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ডাকযোগে জেলা কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ প্রেরণ করেছি।
অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ তদন্ত করলে প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা আমি প্রমাণ করাতে পারব। এছাড়া তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, দুদকের চেয়ারম্যান ও দুদকের ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক এসব ব্যক্তির কাছে ডাকযোগে অভিযোগের অনুলিপিও প্রেরণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ।
অভিযোগের সূত্র ধরে কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গেলে দুজনের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলামের মোবাইলে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্যারের সঙ্গে কাজে ব্যস্ত আছি। পরে আপনাকে ফোন দিচ্ছি। কিন্তু এরপর ওই নাম্বারে বহুবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।
এদিকে কলমাকান্দা শিক্ষা কার্যালয়ের অফিস সহকারী মিল্টনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে মাদক গ্রহণের। কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর খান মো. সারোয়ার ইবনে হাবিব (মিল্টন) নির্ধারিত সময়ে অফিসে আগমন ও প্রস্থান না করায় প্রয়োজনীয় কাজের জন্য এ কার্যালয়ে শিক্ষকদের দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। সদ্য যোগদান করা সহকারী শিক্ষকদের সার্ভিস বুক খোলায় সময়ক্ষেপণ করে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অফিস সহকারী মিল্টন অভিযোগের বিষয়ে বলেন, আমি মাদক সেবন করি না। যতটুকু ন্যায়-নিষ্ঠার সঙ্গে চাকরি করা দরকার সেভাবেই করছি।
কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামকে গতকাল শুক্রবার আবারও অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আসলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, অচিরেই সমাধান হবে। শিক্ষকদের মধ্যে দুই গ্রুপ আছে। তিনি ‘আপাতত না লিখলে চলে না’ এ ধরনের অনুরোধও করেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ গতকাল বিকেলে বলেন, ১০-১৫ দিনের সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করা হবে। আগামীকাল (রবিবার) কয়েক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠনের কথা তিনি জানান। অফিস সহকারী মিল্টনের মাদকের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, এ বিষয়ে এর আগে মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়ে তাকে সতর্ক করে বদলিসহ ডোপ টেস্টের ভয় দেখিয়েছি।
