গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতি

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:১৩ পিএম

আপত্তিকর ফোনালাপ ও অনিয়মের ঘটনায় অভিযুক্ত সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল ভবনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের জরুরি সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিস থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়।

তবে ওই বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির কারণ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।

রেজিস্ট্রারের যৌন কেলেঙ্কারীর ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে শনিবার দেশ রূপান্তর পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। সংবাদটি প্রকাশের পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বেশ কিছু অভিযোগে ওনাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সভায় আলোচনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মিডিয়ার কাছেও উনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নানা অনৈতিক কাজ ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার দুর্নীতি, নারী কেলেঙ্কারিসহ সমস্ত অভিযোগ ট্রাস্টি বোর্ডের আগে থেকেই জানা ছিলো। করোনার কারণে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। এখন সব কাজকর্ম চলছে, ফলে এখন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আজ (শনিবার) থেকে তার চাকরি থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘ট্রাস্টি বোর্ডের জরুরী সভার বিবেচ্য বিষয় ছলো তাকে অব্যাহতি দেওয়া। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে দেলোয়ার হোসেন নিজেও অব্যাহতি চেয়ে ট্রাস্টি বোর্ডকে চিঠি দিয়েছিলেন। তবে তিনি কিছু দিন সময় চেয়েছিলেন। ট্রাস্টি বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয় তাকে সময় দেওয়া যাবে না। আজ থেকেই অব্যাহতি কাযকর হবে।’

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘দেলোয়ার অনেক খারাপ কাজ করেছেন। তার কার্যকলাপে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল তাতে অব্যাহতি না দিলে অবস্থা আরো খারাপ হবে বলে মনে করেছে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা।’

রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি ট্রাস্টি বোর্ডের বিবেচ্য বিষয় নয়। ভুক্তভোগীরা চাইলে মামলা করতে পারেন।’

 এর আগে মঙ্গলবার রেজিস্ট্রারের সঙ্গে এক ছাত্রীর অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা সম্বলিত ২৬ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। এ ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হয়। অবস্থার প্রেক্ষিতে জরুরী সভা আহ্বান করে ট্রাস্টি বোর্ড।

এ ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারকে বরখাস্তের দাবি জানিয়ে পরদিন ট্রাস্টি বোর্ডকে লিখিত বিবৃতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। এছাড়া তাকে বরখাস্ত এবং ঘটনা তদন্তের দাবি জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন অগ্নিসেতু, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ও ডিবেটিং সোসাইটি।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন।

সভায় অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক হোসনে আরা শাহেদ, অধ্যাপক আলতাফুন্নেসা, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. লায়লা পারভীন বানু উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া জুমের মাধ্যমে সভায় যোগ দেন ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, ড. সালেহ্ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদ্দাচ্ছের আলী, ওয়ালিউল ইসলাম এবং শিরীন পারভীন হক ।

২০১৭ সালেও রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রী যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত অভিযোগ ইউজিসিতে দাখিল করেন। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে তখন রেজিস্ট্রারের কাছে জবাব চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে ইউজিসি জানায়।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ ওঠে এবং বিভিন্ন পত্রিকায় সেগুলো প্রকাশিত হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত