রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী রমনা পার্ক জনসাধারণের চলাচলের জন্য কেন উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক বক্তব্য শুনে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জানাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে মৌখিক নির্দেশ দেয়।
এ নিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৪ সেপ্টম্বর দিন ধার্য রাখে আদালত। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর- উস সাদিক।
অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রমনা পার্ক কেন জনসাধারণের জন্য কেন উন্মুক্ত করা হচ্ছে না তা রাষ্ট্রপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। আদালত কোনো লিখিত আদেশ কিংবা রুল দেননি। মৌখিক আদেশ দিয়েছেন।’
দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই রমনা পার্কে সাধারনের চলাচল বন্ধ রয়েছে। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি শেষে একে একে সরকারি বেসরকারি অফিস আদালত খুলে দেওয়া হলেও রমনা পার্ক এখনো সর্ব সাধারনের জন্য উন্মুক্ত হয়নি। এটি উন্মুক্ত করে দিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন ইউনুছ আলী আকন্দ।
আবেদনের বরাতে তিনি জানান, ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দ (মুঘল আমল) থেকে রমনা পার্ক জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু দেশে করোনাভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে মার্চ মাস থেকে পার্কে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে অফিস আদালত খুলে দেওয়া হলেও রমনা পার্ক এখনো উন্মুক্ত করা হয়নি। ফলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা প্রাতঃভ্রমণ, ব্যায়াম করা, প্রাকৃতিক ও নির্মল পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এখানে কোনো জনসমাগম হয় না। অসংখ্য ডায়াবেটিসের রোগী এখানে আসেন। কিন্তু চলাচল উন্মুক্ত না হওয়ায় অনেকের ডায়াবেটিস অয়িন্ত্রিত হয়ে তারা মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর পার্কটি খুলে দিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবকে আইনি নোটিশ পাঠান এই আইনজীবী।
