ওয়াশিংটন ডিসিতে শুক্রবার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক ও নারী অধিকারের আইকনিক ব্যক্তিত্ব রাথ ব্যাডের গিন্সবার্গ। দ্বিতীয়বারের মতো ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে কয়েক মাস ধরে কেমোথেরাপি নিচ্ছিলেন তিনি।
গিন্সবার্গকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেন খ্যাতিমান নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সঙ্গে উল্লেখ করেন তার মতো ব্যক্তিত্বের প্রাসঙ্গিকতা।
ফারুকী লেখেন, “রাথ ব্যাডের গিন্সবার্গের জন্য সারা দুনিয়া জুড়েই মানুষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছে, আমেরিকার মানুষ তো জানাচ্ছেই! তাকে নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হয়েছে, সিনেমা হয়েছে, তার জীবদ্দশাতেই! কিন্তু কে ছিলেন উনি! একজন জাস্টিস! যার এইরকম পাবলিক সেলিব্রিটির মতো আলোচনা বা ভালোবাসায় থাকার কথা না! কেনো ছিলেন? কারণ উনি ছিলেন ন্যায়ের পক্ষে, নিপীড়িতের পক্ষে, সব মানুষের অধিকারের পক্ষে, ভবিষ্যতের পক্ষে!
আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থার দিকে তাকাইয়া আমি ভাবার চেষ্টা করতেছি আমরা কবে এ রকম বিচারপতি পাবো যাকে নিয়ে এইরকম কথা লিখা যাবে বা এইরকম প্রতিক্রিয়া হবে যার মৃত্যুতে? আগে নিশ্চয়ই এ রকম ছিলেন কয়েকজন! কিন্তু এখন কি আছেন এইরকম কেউ?”
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের সবচেয়ে প্রবীণ বিচারক ছিলেন গিন্সবার্গ। দেশটির সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী বিচারক ছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ২৭ বছর ধরে। এ ছাড়া নারী অধিকার নিয়েও সোচ্চার ছিলেন গিন্সবার্গ।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। দীর্ঘ জীবনে ক্যানসারের সঙ্গে কয়েকবার লড়তে হয়েছে গিন্সবার্গকে। দুই দশকে কোলন ক্যানসার ও ফুসফুসের ক্যানসারসহ অন্তত তিনবার প্রাণঘাতী এই রোগে আক্রান্ত হন তিনি।
এ দিকে গিন্সবার্গের সম্মানে হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোয়াইট হাউস। তার মৃত্যুকে শোক জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গিন্সবার্গকে ‘টাইটান অব ল’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমাদের জাতি ঐতিহাসিক এক বিচারককে হারাল। সুপ্রিম কোর্টে আমরা স্নেহ পরায়ণ এক সহকর্মীকে হারিয়েছি। আমরা শোকাহত।”
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের নয় সদস্যের বিচারক বেঞ্চের চার লিবারেল বিচারকের একজন ছিলেন গিন্সবার্গ। তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছিল ট্রাম্প প্রশাসন।
