শুঁটকি পল্লিতে মোট শ্রমিকের ২০ শতাংশ শিশু

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৪৭ পিএম

দেশের শুঁটকি পল্লিগুলোতে মোট শ্রমশক্তির প্রায় ২০ শতাংশ শিশু শ্রমিক। কক্সবাজার, খুলনা এবং সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৫০ টি শুঁটকি পল্লি রয়েছে, যেখানে লাখেরও বেশি মানুষ সরাসরি এই খাতে জড়িত।

মার্কিন ভিত্তিক উইনরক ইন্টারন্যাশনালের আওতাধীন এনজিও, বাংলাদেশ শিশু শ্রম উন্নয়ন (ক্লাইম্ভ) প্রকল্পের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সমীক্ষা অনুসারে, কক্সবাজার সদর ও মহেশখালী উপজেলার ছয়টি শুঁটকি পল্লিতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ শিশু কাজ করছে। শুঁটকি পদগুলো হলো ঠাকুরতলা, ঘোটিভাঙ্গা, খুরুশকুল, চৌফোল্ডোন্ডি, সোনাদিয়া এবং নাজিরারটেক। এই শুঁটকি পল্লি গুলোতে মোট শ্রমশক্তির প্রায় ২০ শতাংশ শিশু শ্রমিক। ক্লাইম্ভ প্রকল্প অনুসারে, প্রায় ২ হাজার ৮০০ শিশু কেবল কক্সবাজারের নাজিরারটেক শুঁটকি পল্লিতে কাজ করছে, যা দেশের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম শুঁটকি উৎপাদনকারী পল্লি।

নাজিরারটেক শুঁটকি পল্লি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আতিকুল্লাহ সাওদাগর বলেছেন, এখানে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক ১ হাজার ৪০ টি শুঁটকি মাছ প্রসেসিং ইউনিটে কাজ করেন। তাদের বেশির ভাগই দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করেন।

সাধারণত অভাবের কারণে শুঁটকি পল্লির শ্রমিকদের শিশুরা তাদের মা-বাবার সাথে শুঁটকি পল্লিতে কাজ করে। তবে সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য এখন শুঁটকি পল্লির শ্রমিকেরা সচেতন হচ্ছে, তাদের শিশুদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে পল্লির শ্রমিক মমতাজ বেগম বলেন, প্রচুর অভাব অনটন সত্ত্বেও তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে নীলুফা আক্তারকে স্কুলে পাঠাচ্ছি। নীলুফা আক্তার এখন ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।

তিনি বলেন, আমি দুই মেয়ে এবং এক ছেলের মা। আমি, আমার স্বামী ও ছেলের সাথে শুঁটকি পল্লিতে কাজ করি। আমার বড় মেয়েকে গত বছর বিয়ে দিয়েছি। আমাদের কুতুবদিয়া পাড়া এলাকার অনেক শিশু তাদের বাবা-মায়ের সাথে শুঁটকি মাছের পল্লিতে কাজ করছে। তবে আমি আমার মেয়ের স্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে স্কুলে পাঠাচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি সংস্থা সিভিক এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং বিশেষজ্ঞ মো. তানভীর শরীফ বলেন, বিভিন্ন শ্রম নিবিড় খাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলির অনেক সাফল্য সত্ত্বেও শুঁটকি পল্লি খাতে শিশুশ্রম নিয়ে আরও মনোযোগ দেওয়া উচিত।

                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                        তিনি বলেন, এই সেক্টরে কর্মরত শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক ও লবণাক্ত জলের সংস্পর্শে আসে ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করে। প্রতিদিন তারা কোনও প্রতিরক্ষামূলক কিছু ছাড়াই বিপজ্জনক পরিবেশে নয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাজ করে। এরূপ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করার কারণে তারা ত্বকের রোগ এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যায় পড়ে।

তিনি বলেন, এ সকল শিশুদের স্কুলে উপস্থিতি কম থাকে। বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণার কারণে শুঁটকি ক্ষেত্রে শিশুশ্রমের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি করতে আমরা শুঁটকি খাতের শ্রমিকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিচ্ছি যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে। তাদের শিশুদের স্কুলগামী করে।

তানভীর শরীফ আরও বলেন, শুঁটকি খাতের শিশুশ্রমকে বিপজ্জনক কাজ হিসাবে বিবেচনা করার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই এটি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত