সিঙ্গাপুরে পৌঁছে হোটেলে উঠেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অণুজীব বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল। সেখানে তিনি ১৫ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন।
রবিবার সন্ধ্যায় মোবাইলে ফোনে দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন বিজন শীল। করোনা পরিস্থিতিতে দেশটিতে বাইরে থেকে ফিরলে ১৫ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়।
বিজন কুমার শীল বলেন, সিঙ্গাপুরে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে বাসায় উঠতে পারিনি। হোটেলে উঠেছি। ১৫দিন হোটেলে থেকে তারপর বাসায় যাব। ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা হয়েছে।
তিনি জানান, সেখান থেকে ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে দেশে ফিরবেন। সব প্রক্রিয়া শেষ করতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।
এর আগে ভিসা জটিলতার কারণে রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। সিঙ্গাপুর যাত্রার আগে সকাল পৌনে সাতটায় বিজন শীল মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি বিমানে উঠেছি। চলে যাচ্ছি সিঙ্গাপুরে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে শিগগিরই দেশে ফেরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
গণবিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ড. বিজনের ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করা হয়েছে। নতুন করে তার পদের বিজ্ঞপ্তি দিতে বলা হয়েছিল। সেটা সম্পন্ন হয়েছে। ট্যাক্সসহ আরও কিছু কাগজ চেয়েছিল, তাও জমা দেওয়া হয়েছে। আরও একটি বিষয় বলা হয়েছে, ওয়ার্ক পারমিট পেলে বাংলাদেশের বাইরে থেকে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তারপর আসতে হবে। এক প্রকার বাধ্য হয়েই ড. বিজনকে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়।
জন্মসূত্রে বাংলাদেশি ড. বিজনের স্ত্রী ও দুই সন্তান সিঙ্গাপুরে থাকেন। গত সাত মাস গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবে সঙ্গীদের নিয়ে গবেষণা করেছেন। ২০০২ সালে সিঙ্গাপুর সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। সিঙ্গাপুরের নিয়ম অনুযায়ী চাকরি নে্ওয়ার পর বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
বিজন কুমার শীল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অ্যান্টিজেন্ট-অ্যান্টিবডি কিটসহ বড় বড় প্রকল্পে যুক্ত। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান পদে যোগ দিয়েছিলেন।
বিজন কুমার শীল পর্যটক ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। এই ভিসার মেয়াদ গত ১ জুলাই শেষ হয়ে যায়। এরপর তিনি নিয়ম মেনে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে এনভিআর (নো ভিসা রিকোয়ার্ড) ভিসা পরিবর্তনের আবেদন করেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রচলিত নিয়ম অনুসারে ড. বিজনকে বিদেশি (অন্য দেশের পাসপোর্টধারী) হিসেবে ‘ই-ভিসা’ (এমপ্লয়মেন্ট ভিসা) করার উপদেশ দেয় এবং তার পর্যটক ভিসার মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে দেয়।
