ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য আগামী ৫ বছরে নতুন করে ১০ লাখ তুরণ তরুণীর আইটি সেক্টরে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। শ্রম নির্ভর অর্থনীতির দেশ থেকে বেরিয়ে এসে মেধা নির্ভর ডিজিটাল ইকোনমির দেশে পরিণত করতে কাজ করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা সদরের দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলের পাশে নীলফামারী হাইটেক পার্কের ১৫ একর জায়গা এবং শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাবিত ২ একর জায়গা পরিদর্শণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমাদেরকে একটি উন্নত দেশ গড়তে বিশ্বের যে চাহিদা সেটিকে পূরণ করতে প্রযুক্তিতে জ্ঞানসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। যেরকমভাবে গত ১১ বছরে তৃণমূলে ইউনিয়ন পর্যন্ত ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল গেছে। শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব থেকে প্রযুক্তিতে শিক্ষা গ্রহণ করেছে আমাদের ছেলে মেয়েরা, যার ফলে আজকে সাড়ে ছয় লাখ আইটি ফ্রিলেন্সার কয়েকশ মিলিয়ন ডলার আয় করছে। এখন বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক অনলাইন কর্মীর দেশ বাংলাদেশ।’
প্রতিমন্ত্রী পলক আরও বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দুই হাজার ফ্রিল্যান্সারকে অনলাইন মার্কেট প্লেসে সম্পৃক্ত করে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা হবে। এজন্য দেশের ৬৪ জেলায় ৩৫ থেকে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন ট্রেনিং সেন্টারে তৈরী করা হবে। যেখানে সারা দেশে দুই হাজার তরুন তরুনী প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন এবং এক হাজার বেকার তরুণ তরুনীর কর্মসংস্থান তৈরী হবে। বর্তমানে দেশে সাড়ে ছয় লক্ষ আইটি ফ্রিল্যান্সার যারা অনলাইন বিভিন্ন মার্কেট প্লেসে কাজ করছেন এবং তারা কিন্তু শত শত মিলয়ন ডলার আয় করছেন। এর মধ্যে নীলফামারী জেলায় রয়েছে দুই শতাধিক ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন। আমাদের টার্গেট আগামী পাঁচ বছরে দুই হাজার ফ্রিল্যান্সারকে অনলাইন মার্কেট প্লেসে এনে তাদের আত্মনির্ভশীল করে গড়ে তোলা।
নীলফামারীর হাইটেক পার্কের প্রস্তাবিত এলাকার পাশের ২ একর জমিতে স্থাপন করা হবে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন ট্রেনিং সেন্টার। খুব শীঘ্রই জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করা হবে।
এ সময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী পলক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীলফামারীসহ দেশের ৬৪ জেলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হাইটেক পার্ক স্থাপনে আন্তরিক। ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রস্তাবিত ২৮ টি হাইটেক পার্কের মধ্যে পাঁচটির কাজ চলমান রয়েছে। যেগুলোর কাজ আগামী ২১ সালের মধ্যে শেষ হবে।
নীলফামারীর হাইটেক পার্কের কাজ ২০১৬ সালে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত স্থানের জমি সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে সেটি পিছিয়ে যায়। বর্তমানে সেই আইনী জটিলতার নিরসন হয়েছে। খুব শীঘ্রই নীলফামারীর হাইটেক পার্ক স্থাপনের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। যেখানে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ম্যানফ্যাকচারিং হাব হিসেবে ব্যবহার হবে।’
আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে নীলফামারীতে হাইটেক পার্ক ও শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের কাজ শেষ হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বিপিএম, পিপিএম, আরডিসি নাহিদ তামান্না, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী নীলফামারী সার্কিট হাউসের সভা কক্ষে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
