সিদ্ধিরগঞ্জে ১৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে একটি বাড়ির ১৭ পরিবার ১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশের হস্তক্ষেপে মুক্ত হয়েছে। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে মিজমিজি মৌচাক হাজি বশু মার্কেট এলাকায় জব্বার মিয়ার তিনতলা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার মূল হোতাসহ অজ্ঞাত ছয়-সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা গেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিনের সঙ্গে জমির সীমানাসংক্রান্ত বিরোধ চলছে জব্বার মিয়ার। জব্বার মিয়ার বাড়ির সামনের রাস্তাটি সালাউদ্দিনের জায়গা বলে দাবি করছেন তারা। তাই এ রাস্তা ব্যবহার করতে হলে ১৫ লাখ টাকা দাবি করে সালাউদ্দিনের ছেলে মাসুম রানা। এ নিয়ে সামাজিকভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক হয়েছে। সামাজিক সিদ্ধান্ত জব্বার মিয়া মানলেও মাসুম রানা মেনে নেয়নি। তাই সে কিছুদিন আগে জব্বার মিয়ার বাড়ির সামনের রাস্তায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেয়।
জব্বার মিয়ার ছেলে রনি জানান, এলাকার লোকজন কাঁটাতারের বেড়া খুলে দেওয়ার পর মাসুম রানা ক্ষিপ্ত হয়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাড়ির দুই পাশে ইটের দেয়াল দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ ও বাড়ির লোকজনকে ভেতরে রেখে প্রধান গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। সারা দিন জিম্মি পরিবারগুলোকে কেউ খাবার পর্যন্ত দিতে পারেনি।
এদিকে খবর পেয়ে রাত ৯টায় বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে বাড়ির সদস্যদের জিম্মিদশার বিষয়টি প্রথমে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুককে জানালে তিনি পুলিশ পাঠাচ্ছেন বললেও দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। পরে পুলিশ সুপারকে অবগত করলে তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে গণমাধ্যমকর্মীদের আশ্বাস প্রদান করার আধঘণ্টা পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ইশতিয়াক আসফাক রাসেলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ১১টায় প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভাড়াটিয়াসহ ১৭টি পরিবারকে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করে। এ ঘটনায় মাসুম রানাকে প্রধান ও অজ্ঞাত ছয়-সাতজনকে আসামি করে রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বাড়ির মালিক জব্বার মিয়ার মেয়ে বর্ণা আক্তার।
এ বিষয়ে জানতে আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন ও তার ছেলে মাসুম রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।
