মৌলভীবাজার জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন

চাঁদার প্রায় দুই কোটি টাকা প্রধানদের পেটে!

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২০, ১২:১৫ এএম

মৌলভীবাজার জেলা অটোটেম্পু, অটোরিকশা, মিশুক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সিলেট শ্রম আদালতে একটি মামলা করেন বিভাগীয় শ্রম দপ্তর শ্রীমঙ্গলের উপপরিচালক মো. নাহিদুল ইসলাম। তার দাবি, জেলার ৭টি উপজেলার ১৭ হাজার পরিবহন শ্রমিকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ৮৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন ইউনিয়ন সভাপতি পাবেল মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বছরের ২ জুলাই মৌলভীবাজার জেলা অটোটেম্পু, অটোরিকশা, মিশুক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নকে ২০১৮ সালের বার্ষিক রিটার্ন দাখিলের জন্য চিঠি দেয় বিভাগীয় শ্রম দপ্তর। এতে চিঠি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বার্ষিক রিটার্ন শ্রম দপ্তরে দাখিল করতে বলা হয়। এ ঘটনায় একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সভাপতি পাবেল মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিমের স্বাক্ষরিত প্যাডে ২০১৮ সালের রিটার্ন দাখিল করে শ্রমিক ইউনিয়ন। এরপর দাখিলকৃত রিটার্নের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাইয়ে তদন্তে নামে বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর। তদন্তে হিসাবের গরমিল পাওয়া যায়। যেখানে ২০১৮ সালে আয় দেখানো হয় ৫১ লাখ ৩২ হাজার ১৫০ টাকা এবং ব্যয় দেখানো হয় ৫১ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা। তবে ওই আয়-ব্যয়ের পর্যাপ্ত প্রমাণাদি হাজির করতে পারেনি তারা। তদন্তকালে জেলার ৭টি উপজেলার ১৭ হাজার সদস্যের কাছ থেকে দৈনিক ২০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের কথা বলা হয়, যা থেকে ইউনিয়নের জেলা কমিটি পায় ৩ টাকা। সে অনুযায়ী জেলা কমিটির প্রতিদিনের আয় প্রায় ৫১ হাজার টাকা এবং বছরে ১ কোটি ৮৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তবে দাখিলকৃত রিটার্নে উল্লিখিত পরিমাণ অর্থ প্রদর্শন করা হয়নি। পাশাপাশি ওই পরিমাণ ব্যয়ের কোনো ভাউচারও দেখাতে পারেননি তারা। তা ছাড়া কাগজে-কলমে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির কথা বলা হলেও রিটার্নে শুধু ইউনিয়ন সভাপতি পাবেল মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হকের স্বাক্ষরই রয়েছে। যেটিকে আত্মসাতের উদ্দেশ্য বলেই মনে করে তদন্ত কমিটি।

তদন্তকালে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যতীত কার্যকরী কমিটির অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণেই কমিটি পরিচালিত হয় বলে প্রতীয়মান হয়। ফলে ইউনিয়নের আর্থিক অনিয়মের সব দায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ওপরই বর্তায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সভাপতি পাবেল মিয়া বলেন, ‘এসব আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’ সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সেলিম বলেন, ‘প্রভাবশালীদের চাপে পড়েই মামলাটি করেছেন বলে বাদী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন। আমাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের কোনো অভিযোগ নেই। সব শ্রমিকই আমাদের সঙ্গে আছে।’

বিভাগীয় শ্রম দপ্তর শ্রীমঙ্গলের উপপরিচালক মো. নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েই আমরা মামলা করেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত