বাংলাদেশে সমালোচিত ‘এক্সট্র্যাকশন’ পেল পিপলস চয়েস মনোনয়ন

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২০, ০৫:২১ পিএম

ক্রিস হেমসওয়ার্থ অভিনীত ‘এক্সট্র্যাকশন’ নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায় এপ্রিলে। বাংলাদেশকে ভুলভাবে চিত্রায়ণের জন্য কুড়ায় সমালোচনা। তবে সেই ছবি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ভীষণ হিট।

‘এক্সট্র্যাকশন’-এর ঝুলিতে এবার যুক্ত হলো পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন। ইনস্টাগ্রাম বার্তায় বিষয়টি জানান ক্রিস।

‘মেল মুভি স্টার অব ২০২০’ এবং ‘অ্যাকশন মুভি স্টার অব ২০২০’ বিভাগে নাম এসেছে ছবিটির। ইনস্টাগ্রামে ভিডিও শেয়ার করে ভক্তদের ধন্যবাদ দেওয়ার পাশাপাশি ভোটও চেয়েছেন অভিনেতা।

তিনি লেখেন, “পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড আমার জন্য খুবই স্পেশাল। কারণ এটা ভক্তদের ভোটে হয়। আমাদের সমর্থন করার জন্য ধন্যবাদ। দয়া করে আমাদের ভোট করুন!”

১৫ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে লাইভে সম্প্রচার করা হবে অ্যাওয়ার্ড শোটি। এবার ৪৪টি বিভাগে থাকছে পুরস্কার।

বাংলাদেশে ‘এক্সট্র্যাকশন’ নিয়ে সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে প্রথম থেকেই তুমুল আকর্ষণ ছিল, কারণ এর গল্পের পটভূমি ঢাকা। কিন্তু মুক্তির প্রথম দিনেই সমালোচনার মুখে পড়ে।

ভারত-বাংলাদেশের দুই ড্রাগলর্ডের লড়াই নিয়ে এই সিনেমার কাহিনি আবর্তিত। পর্দায় দেখানো বেশির ভাগ দৃশ্য ঢাকার শহরের বলা হলেও বিশ্বাসযোগ্যভাবে উঠে আসেনি বলে অভিযোগ।

এ ছাড়া তরুণ এক ড্রাগলর্ডের কথায় ঢাকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও মিলিটারি যেভাবে তৎপরতা দেখায়- তাকে দেশের জন্য অপমানজনক ও বাস্তবতা বিবর্জিত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন দর্শকেরা। শিশুদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিত্রায়ণ ও অন্য কিছু বিষয়কে আফ্রিকার সন্ত্রাস সংকুল এলাকার সঙ্গে তুলনা করছেন। যা কোনোভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

সাড়ে ৬ কোটি ডলার বাজেটের সিনেমাটির মূল দৃশ্যায়ন হয়েছে ভারত ও থাইল্যান্ডে। ঢাকার কিছু দৃশ্য আলাদাভাবে ধারণ করে পড়ে জুড়ে দেওয়া হয়। যে কারণে মূল চরিত্রের সঙ্গে পারিপার্শ্বিক অনেক কিছু মানানসই মনে হয়নি- বলছেন কেউ কেউ।

জানা যায়, চিত্রনাট্যকার জো রুশো গল্পটি লিখেছিলেন প্যারাগুয়ের প্রেক্ষাপটে এক দশক আগে। গল্পটি ভারত-বাংলাদেশে এনে ফেলা হয়েছে একটি বিশেষ কারণে।

নেটফ্লিক্স এখন প্রবলভাবে ভারত-কেন্দ্রিক কনটেন্ট তৈরিতে আগ্রহী। কারণ বিগত আর্থিক বছরে সেখানে নেটফ্লিক্স যতটা আয় করবে ভেবেছিল, তার দ্বিগুণেরও বেশি ব্যবসা ইতিমধ্যেই করে ফেলেছে। তাই গল্পের প্রেক্ষাপট বদলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ও বাংলা কানেকশন রেখেছেন দুই ভাই জো এবং অ্যান্থনি রুশো। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ড গেম’-খ্যাত দুই পরিচালক এই ছবির প্রযোজকও। আর এর মাধ্যমে পরিচালনায় অভিষেক হয় স্যাম হারগ্রেভের।

দুর্বল ও অসংগতিপূর্ণ গল্পের এই ছবিতে আরও আছেন ইরানি অভিনেত্রী ইরানি গোলশিফতেহ ফারাহানি, বলিউডের রণদীপ হুদা ও পঙ্কজ ত্রিপাঠী-সহ কলকাতার কয়েকজন অভিনেতা। ঢাকায় ধারণ করা দৃশ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল অভিনেতা তারিক আনাম খানের প্রতিষ্ঠান। ভাষাগত পরামর্শক হিসেবে ছিলেন ওয়াহিদ ইবনে রেজা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত