মিশরে নতুন আরও বিপুলসংখ্যক সারকোফ্যাগাস (পাথরের কফিন) ও মমির সন্ধান পাওয়া গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রত্নতাত্ত্বিকেরা।
বিবিসি জানায়, গত কয়েক মাসে একের পর এক প্রাচীন মিসরের নিদর্শন আবিষ্কারের ঘটনা ঘটে।
এর মধ্যে কয়েক ডজন নতুন মমি এবং পাথরের ৫৯টি কফিনের সন্ধান পেয়েছে দেশটি।
মিসরের পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক মন্ত্রী খালিদ আল-আনানি এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিষয়টি জানান।
দেশটিতে চলতি বছর এ পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে বড় প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার।
রাজধানীর দক্ষিণে সাক্কারার প্রাচীন সমাধিভূমিতে খনন করে এসব মমি খুঁজে পাওয়া যায়।
কয়েক ডজন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সামনে শনিবার একটি সারকোফ্যাগাস খোলেন মন্ত্রী খালিদ আল-আনানি। সারকোফ্যাগাস হচ্ছে মমি রাখার কফিন।
মন্ত্রী জানান, প্রাচীন মিশরের বিস্ময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি। এই ৫৯টি কফিনের গঠন দু'হাজার ৬০০ বছরের পুরোনো। এরপরেও সেগুলো মজবুত রয়েছে।
ভেতরের মমির অবস্থাও ভাল বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন।
মিসর সরকার জানাচ্ছে, গিজার পিরামিডের কাছে নবনির্মিত গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান যাদুঘরে এসব মমি দর্শনার্থীদের জন্য সাজিয়ে রাখা হবে।
সেপ্টেম্বরে দক্ষিণে সাক্কারার প্রাচীন এক গোরস্থানে আড়াই হাজারো বেশি বছর আগে কবর দেওয়া ২৭টি কফিন আবিষ্কৃত হয়েছিল।
এসব কফিনের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে কিছু পুরাতাত্ত্বিক সামগ্রীও, যাতে রয়েছে কিছু প্রাণীও যেমন বিড়াল, কুমির, গোখরো সাপ এবং পাখি। সেগুলোও খুব সুন্দর নকশা করে তৈরি, গায়ে রং করাও।
কফিনগুলোতে কবে কাদের কবর দেওয়া হয়েছে, কেন এগুলো কখনও খোলা হয়নি- এসব প্রশ্নকে ঘিরে যেসব রহস্য তৈরি হয়েছে কর্মকর্তারা এখন সেসব ভেদ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
মন্ত্রণালয় বলছে, তারা আশা করছে যে ভবিষ্যতে এসব কফিনের রহস্য ভেদ করার পর সেগুলো সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
২০১৯ সালের অক্টোবরে লাক্সার প্রদেশে আসাসিফ সমাধিস্থলে ৩০টি প্রাচীন কফিন আবিষ্কৃত হয়েছিল।
এর আগে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রত্নতত্ত্ববিদরা সাক্কারার স্টেপ পিরামিডের কাছ থেকে মমি করা বেশ কিছু প্রাণীর সন্ধান পেয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:
মিসরের কবরে ২৫০০ বছরের পুরোনো কফিন, রহস্যের হাতছানি
মিসরে ২৫০০ বছর পুরোনো অক্ষত কফিন আবিষ্কার
মিসরে ২৩০০ বছর আগের ৫০ মমির সন্ধান
