মিসরের দক্ষিণাঞ্চলীয় লুক্সোর শহরে মমিসহ প্রাচীন ৩০টি কাঠের কফিন উদ্ধার হয়েছে। কমপক্ষে তিন হাজার বছর আগের কফিনগুলোর ভেতর আছে নারী, পুরুষ ও শিশুদের মমি।
মিসরের প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, লুক্সোরের পশ্চিম তীরে আল আসাসিফ সমাধিক্ষেত্রে একসঙ্গে পাওয়া গেছে এসব কফিন। ওই এলাকাটি ঐতিহাসিক নীল নদের পশ্চিম তীরে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, একসঙ্গে এত কফিন ও মমি পাওয়ার এমন ঘটনা বিরল। এক শতাব্দীর মধ্যে একবারে সবচেয়ে বেশি কাঠের কফিন উদ্ধারের ঘটনা এটি। একই স্থানে মাটির মাত্র ৩ ফুট গভীরে পাওয়া যায় কফিন। কয়েক দিন আগে এগুলো উদ্ধার করা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করা হয় শনিবার।
খবরে বলা হয়েছে, কফিনগুলো এখনো অক্ষত অবস্থায় আছে। এমনকি এর গায়ে যে অলংকরণ রয়েছে, যে নকশা আঁকা রয়েছে, তা বিন্দুমাত্র বিলীন হয়নি।
কফিনগুলো যেহেতু একই স্থানে পাশাপাশি রাখা ছিল তাই ধারণা করা হচ্ছে এটা কোনো উচ্চ পর্যায়ের ধর্মগুরুর পরিবারের সদস্যদের কফিন বা মমি হতে পারে বলেও মিসরের প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য।
দেশটির প্রত্নতত্ত্ববিদ জাহি হাওয়াস বলেন, কফিনগুলোর গায়ের কারুকাজ দেখে মনে হয় সে সময় রাজা, প্রজা সবার কফিনই একরকম ছিল। এটা ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখাবে।
মিসরের প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক সুপ্রিম কাউন্সিলের প্রধান মোস্তফা আল ওয়াজিরি বলেছেন, মিসরের প্রত্নতত্ত্ববিদ, ক্ষণশীল ও কর্মীদের সমন্বয়ে উৎসর্গিত ব্যক্তিদের একান্ত প্রচেষ্টায় আসাসিফ এলাকায় প্রথম এমন ঘটনা উদঘাটন হলো। এসব কফিনের গায়ে যে তারিখের উল্লেখ আছে তাতে তা ২২তম ডাইনেস্টির। এই ডাইনেস্টির সূচনা হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব দশম শতাব্দীতে। বহু বছরের পুরনো হলেও এখনো এসব কফিনে সাপ, পাখি, পদ্মফুল, হায়ারোগ্লিফিকসের কালো, সবুজ, লাল ও হলুদ রঙের ছবি একেবারে চকচক করছে।
খবরে বলা হয়েছে, কফিনগুলো গ্রান্ড ঈজিপশিয়ান মিউজিয়ামে রাখা হবে।
