'অব্যাহত কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাড়িতে দরজা ভেঙে ঢুকে নিপীড়ণ চালানো হয় এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।'
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের শিকার নারী এভাবেই বিবরণ দিচ্ছিলেন সেই রাতের।
তিনি জানান, ২০০১ সালে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। ৮-৯ বছর আগে তার অমতে স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ ঘটনায় তিনি ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন।
ওই নারী বলেন, গ্রামের বাদল, সাইফুল, সুমন, আবুল কালামসহ উল্লেখিত আসামিরা দফায় দফায় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তাতে সায় না দেওয়ায় বাদল ও তার লোকজন তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় প্রতি রাতেই তারা ঘরের চারপাশ দিয়ে ঘোরাফেরা করত এবং ভয় দেখাতো। দীর্ঘদিন পর সম্প্রতি স্বামী তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ নিয়ে বাদল ও তার লোকজন তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়।
তিনি জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯-১০টার দিকে তার স্বামী বাড়িতে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই বাদলের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জন লোক তার ঘর ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে বাদল ও তার লোকজন লাথি মেরে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঢুকে তার স্বামীকে পিটিয়ে পাশের একটি ঘরে আটকে রাখে। এরপরই বাদলসহ তার লোকেরা তাকে মারধর শুরু করে। বাদল তার মাথায় স্টিলের টর্চলাইট দিয়ে আঘাত করেন। এরপর তিনি চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
তিনি জানান, নির্যাতনের ঘটনা ভিডিও করে হামলাকারীরা। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ কাছে আসতে সাহস পায়নি। নির্যাতনকারীরা চলে যাওয়ার সময় এ ঘটনা কাউকে জানালে ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়।
তার ঘরে বিদ্যুৎ না থাকায় হামলার সময় দেলোয়ার ছিলেন কিনা তা তিনি বলতে পারেননি।
ঘটনার পরদিন সকালে নির্যাতিতা নারী স্থানীয় একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিচার চান। মেম্বার সুষ্ঠ বিচারের আশ্বাস দিলেও তিনি কিছুই করেননি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে নির্যাতনকারীরা তাকে পুনরায় অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। একপর্যায়ে তিনি সন্ত্রাসীদের ভয়ে বসতঘরে তালা দিয়ে তার বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেন বলে জানান নির্যাতিতা ওই নারী।
নির্যাতনকারীদের সর্বোচ্চ সাজা ও ইউপি মেম্বারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এক মাসেরও বেশি সময়ের আগের এই ঘটনার ভিডিও রোববার ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।
এরপর ওই নারীকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় স্থানীয় পুলিশ। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরে ওই নারী বেগমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
