কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে ডাকাতিসহ হত্যা মামলায় আদালত দুই সহোদরসহ চারজনকে ফাঁসি ও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদ-ের আদেশ দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে দ-প্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদ-ও প্রদান করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন করিমগঞ্জ উপজেলার সিংগুয়া গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে কাশেম ও তার সহোদর ভাই নজরুল, একই গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে লিটন ও মৃত শুক্কুর মাহমুদের ছেলে ছাত্তার। যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্তরা হলেন সিংগুয়া গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে খোকন, আব্দুল কাদিরের ছেলে সিরাজ উদ্দিন ওরফে সিরাজ, আব্দুল বারীর ছেলে কান্তু মিয়া ও আসনপুর গ্রামের মৃত চানফরের ছেলে শাহেদ।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৬ সালের ২৩ এপ্রিল রাত দেড়টার দিকে করিমগঞ্জ উপজেলার সিংগুয়া গ্রামের গণপূর্ত বিভাগের সাবেক কর্মচারী আব্দুর রহমান আমিনের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসামিরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে। এ সময় আসামিরা আব্দুর রহমানকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি দিয়ে আঘাত ও দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। তখন বাধা দিতে গেলে তার স্ত্রী নূরুন্নাহারকেও ছুরিকাঘাত করে আসামিরা। পরে নগদ ৮০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রতিবেশীরা তাদেরকে উদ্ধার করে করিমগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আব্দুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে নূরুন্নাহার বাদী হয়ে চিহ্নিত ৮ জনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েক জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। ২০০৮ সালের ২৮ জানুয়ারি সিআইডির এএসপি রফিকুল ইসলাম ৮ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
